Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

কনে দেখার সময় কী কী প্রশ্ন করা যাবে, কোনটি যাবে না

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

কনে দেখার সময় কী কী প্রশ্ন করা যাবে, কোনটি যাবে না

Advertisement

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর পরস্পরকে দেখা এবং প্রশ্ন করার বিষয়ে ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া নারীকে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে রয়েছে কিছু শর্ত ও সীমারেখা। 

মোহাম্মদপুর জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী এ সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। নিচে তার প্রশ্নে উত্তর তুলে ধরা হলো- 

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল যে, আমি জনৈকা আনসারী নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছি (আপনার কী অভিমত?)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘(বিয়ের পূর্বে) তাকে দেখে নাও। কেননা, আনসারী নারীদের চক্ষুতে কিছু দোষ থাকে।’ (মুসলিম: ১৪২৪, নাসায়ী: ৩২৪৬, আহমাদ: ৭৮৪২, সহীহাহ্: ৯৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যেন দেখে নেয়, যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।’

বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা অন্তরে গোপন রেখেছিলাম। এরপর আমি গোপনে তার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখি, যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী করে তুলল। এরপর আমি তাকে বিয়ে করি।’ (আবু দাউদ: ২০৮২)

তবে পাত্রী দেখার সময় শুধুমাত্র পাত্র ব্যতীত অন্য কোনো নন-মাহরাম, যেমন ছেলের বাবা, ভাই, দুলাভাই, বন্ধু প্রমুখ, মেয়েকে দেখতে পারবে না। এটা হারাম।

আর পাত্র যখন পাত্রীকে দেখবে, তখন এক্ষেত্রে শুধু পাত্রীর চেহারা, হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা দেখা যাবে। এছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ দেখতে পারবে না। এমনকি মাথার চুলও দেখা যাবে না।

এ বিষয়ে ইবন আবেদীন রহ. বলেন, ‘পাত্রীর চেহারা, দুই হাতের কব্জি ও দুই পা (পাতা) দেখা জায়েয। এর বেশি দেখা যাবে না।’ (হাশিয়া ইবন আবেদীন: ৫/৩২৫)

পাত্র-পাত্রীর দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতায় যেসব শর্ত

পাত্র-পাত্রীর পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার কয়েকটি মূলনীতি রয়েছে।

১. খালওয়াত (একা থাকা, গোপন কক্ষে অবস্থান করা বা আত্মগোপন) হতে পারবে না।

২. মুবাহ (ইসলামে যেসব বিষয়ে আদেশ, নিষেধ কিছুই করা হয়নি বা যেসব বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে) বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।

৩. ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকতে হবে। যদি কামভাব জাগ্রত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায়, অথবা কোনো একজন উপভোগ করতে শুরু করে নেয়, তাহলে তখন সেটা হারাম হয়ে যাবে।

৪. নারী নরম ভাষায় কথা বলতে পারবে না।

৫. নারী পূর্ণ হিজাব তথা কবজা পর্যন্ত হাত, টাখনু পর্যন্ত পা এবং মুখ ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখবে।

৬. প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা যাবে না।

যখন এসব শর্ত পাওয়া যাবে, তখনই মূলত পাত্র-পাত্রী পরস্পর আলোচনা ও দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে।

সুতরাং, পাত্রী দেখার সময় পাত্রের অতিরিক্ত প্রশ্ন না করা উচিত। এতে পাত্রী বিব্রত অবস্থায় পড়তে পারেন।

যতটুকু জানার প্রয়োজন থাকবে, পাত্রের মাহরাম মহিলারা তা জেনে নেবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম