Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

‘আফিয়াহ’-কে যে কারণে শ্রেষ্ঠ দোয়া বললেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

‘আফিয়াহ’-কে যে কারণে শ্রেষ্ঠ দোয়া বললেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মানুষ তার ক্ষণস্থায়ী জীবনে সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার সন্ধানে প্রতিনিয়ত ছুটে চলে। কিন্তু স্রষ্টার কাছে চাওয়া-পাওয়ার এই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে দামি ও পুর্ণাঙ্গ জিনিসটি আসলে কী? আমরা অনেকেই হয়তো বিশাল সম্পদ, দীর্ঘায়ু বা জাগতিক সফলতার জন্য প্রার্থনা করি। অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন এমন এক মহামূল্যবান শব্দ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে দুনিয়ার পরম শান্তি আর পরকালের চিরন্তন মুক্তি। আর সেই সর্বশ্রেষ্ঠ উপহারটির নাম হলো— ‘আফিয়াহ’। যা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বশ্রেষ্ঠ কাঙ্ক্ষিত চাওয়া।

হজরত আববাস (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহাসুপারিশ

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় চাচা হজরত আববাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রা.) একদিন বিশ্বনবীর (সা.) দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন— ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন, যা আমি আল্লাহর কাছে চাইব।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থপূর্ণ উপদেশ দিয়ে বললেন— ‘তুমি আল্লাহর কাছে ‘আফিয়াহ’ প্রার্থনা কর।

কয়েক দিন পার হওয়ার পর হজরত আববাস (রা.) পুনরায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে একই আর্জি জানালেন। তিনি চাইলেন বিশেষ কোনো দীর্ঘ বা ভিন্ন দোয়া। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ভালোবেসে স্নেহের সুরে আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন—

يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُولِ اللَّهِ سَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

‘হে আব্বাস! হে আল্লাহর রাসুলের চাচা! তোমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াহ প্রার্থনা কর।’ (তিরমিজি ৩৫১৪)

‘আফিয়াহ’ শব্দের অর্থ ও উদ্দেশ্য কী?

সহজ ভাষায় ‘আফিয়াহ’ মানে হলো— আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা, সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ। যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে ‘আফিয়াহ’ চায়, তখন সে মূলত—

  • দেহের দিক থেকে: ব্যাধি ও অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকা চায়।
  • মনের দিক থেকে: দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও বিষাদ থেকে নিরাপত্তা চায়।
  • ঈমানের দিক থেকে: ফিতনা-ফাসাদ, পাপ ও বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকা চায়।
  • পরকালের দিক থেকে: আল্লাহর আজাব ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে মাফ পেয়ে জান্নাত অর্জন করতে চায়। অর্থাৎ, ‘আফিয়াহ’ হলো এমন এক جامع (পূর্ণাঙ্গ) দোয়া, যার মাঝে মানুষের প্রয়োজনীয় সব কল্যাণ একত্রিত করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় ও দৈনন্দিন দোয়া

আমাদের প্রিয় নবী (সা.) নিজেও সবসময় আল্লাহর দরবারে ‘আফিয়াহ’ কামনায় মগ্ন থাকতেন। বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যায় তিনি নিয়মিত এই দোয়াটি পাঠ করতেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ-দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা এবং ‘আফিয়াহ’ (সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা) প্রার্থনা করছি।’ (ইবনে মাজাহ ৩৮৭১, আবু দাউদ ৫০৭৪)

আরও পড়ুন
ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম কী ও কেন?

পবিত্র কুরআনের আলোকে প্রশান্তির প্রার্থনা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনেও তার অনুগত বান্দাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ প্রার্থনার চমৎকার শিক্ষা দিয়েছেন—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২০১)

মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কোনো শেষ নেই। কিন্তু সুস্থতা ও নিরাপত্তা না থাকলে পৃথিবীর কোনো সম্পদই মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। তাই অযথা হাজারো জিনিসের পেছনে না ছুটে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই ছোট্ট অথচ কালজয়ী অমূল্য রত্নটি আমাদের প্রতিদিনের মোনাজাতের অংশ বানিয়ে নেওয়া উচিত। আসুন, আমরা প্রতিটি সেজদায় ও প্রার্থনার মুহূর্তে নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য এবং পুরো উম্মাহর জন্য আল্লাহর দরবারে বিনম্র চিত্তে ‘আফিয়াহ’ ভিক্ষা চাই।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম