সংক্ষিপ্ত ও সহজ যে দোয়ায় জান্নাত সুনিশ্চিত
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরকালের অসীম জীবনে জান্নাতের মেহমান হওয়া— পৃথিবীর প্রতিটি মুমিনের জীবনে এর চেয়ে বড় আর কোনো স্বপ্ন হতে পারে না। মহান আল্লাহর সমস্ত হুকুম-আহকাম মানা, জিকির-আজকার করা আর চোখের জলে তওবা করার মূল লক্ষ্যই তো একটি: শেষ বিচারে রবের অপরিসীম দয়ায় জান্নাত লাভ করা।
তবে ভেবে দেখুন তো, দৈনন্দিন জীবনের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে যদি এমন একটি ছোট্ট ও সহজ আমল পাওয়া যায়, যা হৃদয়ের গভীর থেকে একবার উচ্চারণ করলেই জান্নাত সুনিশ্চিত হয়ে যায়—তাহলে কেমন হয়? রাসুলুল্লাহ (সা.) পরম ভালোবাসায় আমাদের জন্য ঠিক তেমনই এক অমূল্য উপহার রেখে গেছেন।
মহাগ্রন্থ কুরআনের বার্তা: ইমান ও সৎকর্মেই সাফল্য
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনেও মুমিনদের চিরন্তন সেই সুসংবাদ শুনিয়েছেন, যেখানে কেবল ইমান আর নেক আমলের বিনিময়ে জান্নাতের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا
‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে ফেরদাউস জান্নাত।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ১০৭)
হাদিসের সুসংবাদ: তিনটি কথায় জান্নাত ওয়াজিব
প্রিয়নবী (সা.)-এর পবিত্র হাদিসে এমন একটি সংক্ষিপ্ত দোয়ার কথা এসেছে, যা পাঠ করা মাত্রই জান্নাত লাভ অবধারিত হয়ে যায়। হাদিসে পাকে এসেছে—
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا
উচ্চারণ: ‘রাদিতু বিল্লাহি রব্বা, ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রাসুলা।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।’
وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (আবু দাউদ ১৫২৯)
মাত্র তিনটি কথার ছোট্ট একটি অঙ্গীকার! কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে এই মুক্তকণ্ঠ স্বীকারোক্তির মূল্য কত যে অপরিসীম, তা এই হাদিস থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
দোয়াটি কীভাবে পড়বেন?
দোয়াটি উচ্চারণ করা অত্যন্ত সহজ এবং মনে রাখাও খুব কঠিন কিছু নয়—
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا
উচ্চারণ: ‘রাদিতু বিল্লাহি রব্বা, ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রাসুলা।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।’
আমলের সঠিক সময় ও নিয়ম
হাদিস শরীফে এই দোয়াটি পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই সারা দিনের যে কোনো সময়ে আপনি হৃদয়ের গভীর অনুভূতি নিয়ে এটি বারবার জিকির করতে পারেন।
প্রতিদিনের জিকির: প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এবং প্রতি ফরজ নামাজের পর এটি পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে (তাহাজ্জুদের সময়), আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে এবং মনের ভেতর যখনই রবের স্মরণের আকুলতা জেগে ওঠে—তখনই মুখ ফুটে প্রিয় দোয়ার সুর ভাসিয়ে দিন।
দুনিয়ার সামান্য সুখে আমরা কত দ্রুত আনন্দিত হই, আবার দুঃখের ছায়ায় কত দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু যে মুমিন তার জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহকে একমাত্র অভিভাবক হিসেবে, ইসলামকে জীবনের একমাত্র পথ হিসেবে এবং প্রিয়নবীকে (সা.) একমাত্র আদর্শ হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে—রব তাকে কখনো নিরাশ করেন না। আসুন, জিহ্বাকে এই সহজ ও মিষ্ট জিকিরে সিক্ত রাখি এবং আখেরাতে জান্নাতের চিরস্থায়ী ঠিকানাকে নিজের করে নিই।

