Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি

মক্কার পবিত্রতাকে লক্ষ্য করে কোনো হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

মক্কার পবিত্রতাকে লক্ষ্য করে কোনো হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়

Advertisement

পবিত্র মক্কা মুকাররমাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ও সামরিক তৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ।

সংগঠনটি বলেছে, পবিত্র মক্কা মুকাররমার নিরাপত্তা ও পবিত্রতাকে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি গুরুতর আঘাত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত আল্লাহর পবিত্র ঘর কাবা শরিফ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কিবলা এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও আত্মিক বন্ধনের কেন্দ্র। তাই মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতাকে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হুমকি, সামরিক তৎপরতা বা ঝুঁকি সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কা মুকাররমার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। মক্কা নগরীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এ ধরনের তৎপরতা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ বলেছে, পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও ইসলামের অন্যান্য পবিত্র স্থানকে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাতের অংশ করা যাবে না। পবিত্র স্থান, বেসামরিক জনগণ, হজ-ওমরাহ পালনকারী এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা ও হামলা বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে পবিত্র মক্কার মর্যাদা সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে ব্যক্তি সেখানে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘনের ইচ্ছা করে, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।’ (সূরা আল-হাজ্জ, ২২:২৫)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যে তাতে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ।’ (সূরা আলে ইমরান, ৩:৯৭)।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা মুকাররমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। ফলে পবিত্র মক্কার নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে এমন কর্মকাণ্ড শুধু কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয় নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর সর্বাধিক পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর বিষয়।

সংগঠনটি জানায়, ২০১৭ সালেও মক্কা মুকাররমা অভিমুখে হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাটি পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম বিশ্বের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতকে পবিত্র নগরী ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, মক্কা মুকাররমা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং কাবা শরিফ কোনো সামরিক লক্ষ্য নয়। পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা ও মুসলিম উম্মাহর পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা বিশ্বের মুসলমানদের গভীর আকাঙ্ক্ষা। পবিত্র মক্কা মুকাররমার প্রতি যেকোনো হুমকি ও আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের জনগণ ও সরকারের প্রতি এবং পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। হুতিদের সহিংসতা পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ওয়ালি উল্লাহ, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী, প্রফেসর ড. শফি উদ্দিন, ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ আব্দুল হালীম মাদানী, ড. আব্দুল্লাহ আল কাফি, ড. রেজাউল করিম, ড. আবদুল বাসীর, ড. হারুন অর রশীদ ত্রিশালী, ড. আব্দুল মুমিন প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম