জুমার দিনে পুরুষদের জন্য ঘোষিত সওয়াব কি নারীরা পাবেন?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সপ্তাহের সেরা ও মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমাবার হলো উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য অফুরন্ত বরকত ও কল্যাণের দিন। ইসলামি শরিয়তে এ দিনটির গুরুত্ব অত্যন্ত সুউচ্চ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম ৮৫৪)
জুমার দিনের নির্দিষ্ট কিছু আমল ও ফজিলত রয়েছে, যা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। যদিও মসজিদে যাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত আমলগুলো মূলত পুরুষদের জন্য নির্ধারিত, তবে চাইলে নারীরা ঘরে বসেই এই বরকতময় দিনের পূর্ণ সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
১. জুমার দিনে নারীদের সাধারণ আমলসমূহ
মসজিদে যাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো বাদে জুমার দিনের বাকি সকল গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আমল নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে পালন করতে পারেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো—
> গোসল করা: জুমার দিন পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করা।
> বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা: প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ ও সালাম পেশ করা।
> সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা: জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরময় করে রাখা।
> দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা: জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটিতে (বিশেষ করে আসরের পর) দোয়ায় মশগুল থাকা।
২. নারীদের ঘরে সালাত আদায় ও উত্তম স্থান
পুরুষদের মতো নারীদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়; বরং তারা বাড়িতে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। ইসলামে নারীর ঘরের ভেতর ইবাদত করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
صَلَاةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهتِ فِي حُجْرَتِهَا، وَصَلَاتُهَا فِي مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَاتِ فِي بَيْتِهَا
‘নারীদের ঘরে নামাজ পড়া বাইরে (মসজিদে) নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘নারীদের নামাজের উত্তম জায়গা হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ।’ (মুসনাদে আহমদ ২৬৫৪২; আল-মুজামুল আওসাত ৯১০১)
৩. পরোক্ষ আমলের মাধ্যমে পুরুষদের সমপরিমাণ সওয়াবের সুযোগ
অনেক নারী আক্ষেপ করে থাকেন যে, মসজিদে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা জুমার দিনের বিশেষ আমলগুলোর (যেমন— আগেভাগে মসজিদে যাওয়া, প্রথম কাতারের সওয়াব, খুতবা শোনা ইত্যাদি) সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন। আলেমদের মতে, এই আক্ষেপের কোনো কারণ নেই। ঘরের পুরুষদের (স্বামী, ভাই বা সন্তান) জুমার এসব সুন্নতে উৎসাহ ও সহযোগিতা করার মাধ্যমে নারীরাও সমপরিমাণ সওয়াবের অংশীদার হতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ
‘যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে ডাকবে, সে তার অনুসারীর সমান সওয়াব পাবে। অথচ অনুসরণকারীর সওয়াব মোটেও কমানো হবে না।’ (আবু দাউদ ৪৬০৯)
এই নীতি অনুযায়ী, পুরুষদের উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার, পায়ে হেঁটে বা আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার প্রতি উৎসাহিত করার কারণে নারীরাও সমপরিমাণ প্রতিদান লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।
৪. একটি প্রচলিত ভুল ধারণা ও জোহরের সঠিক ওয়াক্ত
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, পুরুষরা জুমার নামাজ শেষ করে ঘরে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত নারীরা ঘরে জোহরের নামাজ পড়তে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণা।
জুমার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর বিনা প্রয়োজনে নারীদের নামাজ আদায়ে বিলম্ব করা উচিত নয়। জোহরের ওয়াক্ত বা মোস্তাহাব সময় উপস্থিত হলেই নারীরা ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করে নিতে পারবেন। পুরুষদের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। (আল-বাহরুর রায়েক ও কানজুদ দাকায়িক)।
জুমাবার কেবল পুরুষদের জন্যই নয়, বরং নারীদের জন্যও আত্মশুদ্ধি ও ইবাদত-বন্দেগির এক সুবর্ণ সুযোগ। ঘরে বসেই সুন্নতের ওপর আমল করা, পরিবারকে সৎকাজে উৎসাহিত করা এবং সঠিক সময়ে জোহরের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে নারীরা জুমার দিনের পূর্ণ বরকত ও রহমত লাভ করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল নারী ও পুরুষকে জুমার দিনের বরকত অর্জন করার এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যত্নসহকারে আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।

