Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ উপহার: দোয়া কবুলের সেরা মুহূর্ত কোনটি?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ উপহার: দোয়া কবুলের সেরা মুহূর্ত কোনটি?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার প্রতিটি মুহূর্তই রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ। তবে এই বরকতময় দিনের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য হলো- এর ভেতরে এমন কিছু মুহূর্ত বা সময় লুকিয়ে আছে, যখন বান্দা আল্লাহর দরবারে যা চায়, তা-ই কবুল করা হয়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি এ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তাহলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫) 

এই মহামূল্যবান সময়টি কখন, তা নিয়ে ইসলামি স্কলার ও সাহাবায়ে কেরামের মতামত এবং হাদিসের নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো—

১. দোয়া কবুলের মোক্ষম সময়: আসর থেকে সূর্যাস্ত

হজরত আবু হুরায়রা (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বলসহ (রহ.) অধিকাংশ সাহাবি ও বিশিষ্ট আলেমের ঐকমত্য হলো— জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ ও নিশ্চিত সেই সময়টি হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

يَوْمُ الْجُمُعَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً، فِيهَا سَاعَةٌ لَا يُوجَدُ عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَاتَاهُ إِيَّاهُ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ

‘জুমার দিনে (দিনের দৈর্ঘ্যের হিসাবে) বারোটি মুহূর্ত রয়েছে। তাতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা প্রদান করেন। ওই মুহূর্তটিকে তোমরা আসরের পর দিনের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর।’ (নাসাঈ ১৩৮৯)

২. অপেক্ষারত ব্যক্তিও নামাজের সওয়াবে থাকে

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ বর্ণনায় জুমার দিনের এই শেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে চমৎকার একটি আলোচনা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এই বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বললাম—

إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ سَاعَةً... قَالَ: هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ مِنْ نَهَارِ الْجُمُعَةِ. فَقُلْتُ: إِنَّهَا لَيْسَتْ سَاعَةَ صَلَاةٍ! قَالَ: بَلَى، إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا صَلَّى ثُمَّ جَلَسَ لَا يَحْبِسُهُ إِلَّا الصَّلَاةُ، فَهُوَ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى يَرْجِعَ

‘আমরা তো জানি এটি এমন এক মুহূর্ত যখন নামাজরত অবস্থায় দোয়া করলে কবুল হয়, অথচ আসরের পর তো নফল নামাজ পড়া নিষেধ (বা এটি নামাজের নির্দিষ্ট সময় নয়)! তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘সেটি হলো দিনের শেষ মুহূর্ত। ...মুমিন বান্দা যখন এক নামাজ শেষ করে বসে থাকে এবং কেবল পরবর্তী নামাজের অপেক্ষাই তাকে আটকে রাখে, তখন সে সালাতরত বা নামাজের অবস্থাতেই থাকে।’ (ইবনে মাজাহ ১১৩৯)


৩. আসরের পরের এই সময়ে আমাদের করণীয়

জুমার দিনের এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত মূল্যবান সময়ে মুমিনের উচিত দুনিয়াবি সমস্ত ব্যস্ততা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা। এ সময়ে যা করা বাঞ্ছনীয়—

  • দোয়া ও মুনাজাত: নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজন, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা।
  • ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তেগফার): অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ ও ত্রুটির জন্য আল্লাহর দরবারে চোখের পানি ফেলে ক্ষমা চাওয়া।
  • রিজিক ও হেদায়াত কামনা: ইমানের ওপর অবিচলতা, হালাল রিজিক এবং উত্তম জীবনের জন্য প্রার্থনা করা।

জুমার দিনটি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল রহমতের সওগাত নিয়ে আসে। বিশেষ করে আসরের পরবর্তী সময়টি হলো মুমিনের ভাগ্য পরিবর্তনের মোক্ষম সুযোগ। তাই হে অবহেলাকারী মন! ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, জুমার দিন আসর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সামান্য কিছু সময় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বসে পড়ুন। আশা করা যায়, পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবুল করে আমাদের জীবনকে ধন্য করবেন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম