কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পার্থিব প্রয়োজন কিংবা ক্ষণস্থায়ী প্রাপ্তির ঊর্ধ্বে একজন মুমিনের জীবনে এমন একজন জীবনসঙ্গীর প্রত্যাশা থাকে, যিনি কেবল দুনিয়ার সঙ্গী নন, বরং আখিরাতের পথেও একে অপরের সহায়ক হবেন। যিনি হাত ধরে আল্লাহর ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ঈমানের আলো ছড়িয়ে দেবেন।
ফজরের স্নিগ্ধ ভোরে ইবাদতের ছোঁয়া
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
‘তোমরা সমস্ত নামাজ ও মধ্যবর্তী নামাজের হিফাজত কর এবং আল্লাহর সামনে বিনম্রচিত্তে দাড়াও।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৩৮)
জীবনের সকাল শুরু হোক প্রভুর স্মরণে। কেউ একজন থাকুক—যিনি ফজর ছুটে গেলে পরম মায়ায় রাগ করবেন, ঘুমঘুম চোখে অজুর পর নিজের আন্তরিকতার আস্তিনে মুখ মুছতে দেবেন এবং দিনের শুরুতে দুজনে মিলে সমস্বরে তেলাওয়াত করবেন পবিত্র কুরআনের সুমধুর বাণী—
يس وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ
‘ইয়াসিন। প্রজ্ঞাময় কুরআনের কসম।’ (সুরা ইয়াসিন)
জোহর ও আসরের মধ্যাহ্নিক সচেতনতা
দিনের ব্যস্ততার ভিড়েও রবের কথা ভুলে যাওয়ার জো নেই। কেউ একজন থাকুক—যিনি জোহরের ওয়াক্ত কাজা হয়ে গেলে মিষ্টি অভিমান করবেন এবং শাসনমূলক ভঙিতে রান্না বন্ধ রাখবেন। আবার আসরের পবিত্র সময় ফেলে অন্য কোনো অনর্থক বিষয়ের প্রতি আসক্তি দেখলে যিনি স্নিগ্ধ অথচ শাসনের দৃষ্টিতে তাকাবেন, যেন অবহেলায় মুমিনের কোনো নেক আমল হাতছাড়া না হয়ে যায়।
মাগরিবের শান্ত সন্ধ্যায় জান্নাতের ফিকির
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের অগ্নিকুণ্ডের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২০১)
সন্ধ্যা নামার শান্তি ও প্রশান্তিতে কেউ একজন থাকুক— যিনি পরম যত্নে মাগরিবের মোসাল্লাটি এগিয়ে দেবেন এবং নামাজ শেষে পরম মায়ায় মনে করিয়ে দেবেন সেই অন্তরের আর্তি—
اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান-নার।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’
জীবনের অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ ও অধিক আয়ের নিষ্ফল তাগাদা না দিয়ে যিনি অন্তরে পরকালের খোদাভীতি জাগিয়ে তুলবেন এবং রিজিকের বরকতের জন্য ভালোবাসার সুরে স্মরণ করিয়ে দেবেন সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করার কথা। যে আমলে আল্লাহ দারিদ্র দূর করে দেবেন। হাদিসে পাকে এসেছে—
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا
‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, তাকে কখনো দারিদ্র্য স্পর্শ করবে না।’ (বাইহাকি ২২৬৯)
পরিশেষে দুনিয়ার প্রতিটি স্বামীর চাওয়া বা প্রার্থনা হোক এমন একজন সঙ্গী পাওয়ার, যিনি কেবল দুনিয়াবি সুখ-দুঃখের অংশীদারই নন, বরং যিনি হাত ধরে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। যার ছায়ায় প্রতিটি দিন শুরু হবে আল্লাহর ইবাদত দিয়ে এবং সমাপ্তি ঘটবে রবের সন্তুষ্টির অন্বেষণে।

