সুদ-ঘুসের টাকায় বাড়ি-গাড়ি, তওবায় ক্ষমা হবে কি?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সুদ ও ঘুসের মতো হারাম উপার্জনে লিপ্ত থেকে বাড়ি, গাড়ি ও বিপুল সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুললেন। অতঃপর তৌফিক লাভের পর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো সুদ-ঘুস না খাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করে আল্লাহর দরবারে তওবা করলেন। তিনি হারাম উপার্জন বন্ধ করে দিলেন ঠিকই, কিন্তু আগের সেই হারাম টাকায় কেনা বাড়ি-গাড়ি ও সম্পদগুলো নিজের ভোগবিলাসে ব্যবহার করতে থাকলেন। এমন পরিস্থিতিতে কি তার তওবা বা ক্ষমা কবুল হবে?
তওবা কবুল হওয়ার মৌলিক শর্তসমূহ
গুনাহ বা অন্যায় কাজ থেকে তওবা করা আবশ্যক এবং ওলামায়ে কেরাম একে ওয়াজিব বলেছেন। গুনাহ যদি কেবল আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যকার বিষয় হয় এবং তাতে অন্য কোনো মানুষের হকের সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে খাঁটি তওবা কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পালন করা অপরিহার্য। তাহলো—
প্রথম শর্ত— কৃত অপরাধ ও গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হতে হবে।
দ্বিতীয় শর্ত— যে গুনাহ থেকে তওবা করা হচ্ছে, তা তৎক্ষণাৎ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিতে হবে।
তৃতীয় শর্ত— ভবিষ্যতে ওই গুনাহের পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে।
এই তিনটি শর্তের মধ্যে যদি একটি শর্তও লঙ্ঘিত হয়, তবে সেই তওবা শুদ্ধ হবে না এবং ওই তওবার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফের আশাও করা যাবে না।
বান্দার হক ও চতুর্থ শর্ত— সুদ-ঘুসের ক্ষেত্রে যা করণীয়
গুনাহের কাজটি যদি সরাসরি বান্দার হক বা অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে ওপরের তিনটি শর্তের সঙ্গে চতুর্থ আরেকটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত হয়। আর তা হলো—হকদার ব্যক্তির হক ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে দাবি মাফ করিয়ে নিতে হবে।
সুদ ও ঘুসের মতো অপরাধগুলো সরাসরি বান্দার হক বা অধিকার হরণের সঙ্গে জড়িত। অন্যায়ভাবে যদি কেউ অপরের ধনসম্পদ, মালামাল বা অধিকার জোরপূর্বক দখল বা ভক্ষণ করে, তবে তা ফেরত দিতে বাধ্য। অন্য কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিলে কিংবা গীবত-শেকায়াত করলে সংশ্লিষ্ট مظلوم (মজলুম) বা নিগৃহীত ব্যক্তির থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হয়। এই চার শর্ত পালন না করলে বান্দার হক সংশিষ্ট গুনাহ থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
হারাম উপার্জনে গড়া বাড়ি-গাড়ির ক্ষেত্রে করণীয়
যেহেতু সুদ ও ঘুসের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সরাসরি অবৈধ এবং এর সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হক জড়িত, তাই আগের সেই হারাম টাকায় কেনা বাড়ি, গাড়ি বা সম্পদ বহাল রেখে কেবল মুখে তওবা করলেই তা যথেষ্ট হয় না। তওবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য হারাম পন্থায় অর্জিত ওই সম্পদ বা তার সমপরিমাণ অর্থ বৈধ উপায়ে প্রকৃত মালিক বা তাদের ওয়ারিশদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। মালিকের সন্ধান না পেলে তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দিতে হবে। অবৈধ সম্পদ নিজের ভোগে রেখে তওবা করলে তওবার পূর্ণ শর্ত পূরণ হয় না।
আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। বান্দা লজ্জিত হয়ে তওবা করলে তিনি তা কবুল করেন। তবে তওবা কেবল একটি মুখের বুলিমাত্র নয়, বরং এটি একটি ব্যাপক মানসিক ও বাস্তবসম্মত পরিশুদ্ধি। সুদ-ঘুসের মাধ্যমে তৈরি করা বাড়ি-গাড়ি ও অবৈধ সম্পদ নিজের ভোগে রেখে খাঁটি তওবা সম্পন্ন হতে পারে না। তাই তওবা কবুল করাতে হলে হারাম উপার্জনের সমস্ত সম্পদ বর্জন ও হকদারের হক ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত অর্থে আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

