এআই দিয়ে তালাকনামা তৈরি করে স্বাক্ষর, তালাক কি কার্যকর?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তালাকনামা তৈরি করে তাতে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করলেও শরিয়তের শর্ত পূরণ হলে তালাক কার্যকর হতে পারে। তালাকনামায় যত তালাক লেখা থাকবে, তত তালাকই কার্যকর হবে বলে এক ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তালাকনামা তৈরি করে তাতে নিজের স্বাক্ষর সংযুক্ত করার ফলে তালাক সংঘটিত হয়েছে কি না’— এমন প্রশ্নের জবাবে এ ফতোয়া দেওয়া হয়। প্রশ্নটি করেছেন নওয়াপাড়ার এক ব্যক্তি। প্রকাশিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুরের ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম।
প্রশ্নে ওই ব্যক্তি জানান, তাদের বিবাহিত জীবনের বয়স প্রায় তিন বছর। একদিন সামান্য বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের পরদিন তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি এআই ব্যবহার করে একটি তালাকনামা তৈরি করেন। এ জন্য আগে অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা একটি তালাকনামার নমুনা এআইকে দিয়ে অনুরূপ আরেকটি তৈরি করান। এরপর নিজের ও স্ত্রীর নাম যুক্ত করেন এবং কাগজে লেখা নিজের নামের ছবি তুলে তা তালাকনামার স্বাক্ষরের জায়গায় বসিয়ে দেন।
এভাবে তালাকনামা তৈরি করে স্বাক্ষর যুক্ত করার কারণে স্ত্রীর ওপর তালাক কার্যকর হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে এক তালাক, নাকি তিন তালাক হয়েছে— তা জানতে চান তিনি।
জবাবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, লিখিত তালাক শরিয়তে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। স্বামী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তালাকনামা লিখলে এবং তাতে তালাকের স্পষ্ট বক্তব্য থাকলে শরয়ি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লিখিত তালাকের মাধ্যমেও তালাক কার্যকর হয়। এ ক্ষেত্রে সাক্ষী থাকা শর্ত নয়।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে এআইয়ের মাধ্যমে তালাকনামা তৈরি করে তাতে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করার পর স্বামী যদি জেনে-বুঝে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সেটি গ্রহণ করেন ও স্বাক্ষর করেন, তাহলে তা লিখিত তালাক হিসেবে গণ্য হবে। তালাকনামায় যত তালাক লেখা থাকবে, তত তালাকই কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, তালাকনামায় এক তালাক লেখা থাকলে এক তালাক এবং তিন তালাক লেখা থাকলে তিন তালাক কার্যকর হবে বলে ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে এআই দিয়ে তালাকনামা তৈরি করা হয়েছে কি না, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং স্বামীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে তালাক দেওয়া ও তাতে স্বাক্ষর করাই বিবেচ্য।
এ বিষয়ে দলিল হিসেবে ফতোয়ায় আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া এবং ফাতাওয়া শামি গ্রন্থের বরাত দেওয়া হয়েছে।

-6ad4918f6f60b.jpg)