Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

যানবাহনে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি ও শরয়ি বিধান

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

যানবাহনে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি ও শরয়ি বিধান

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। একজন মুমিনের জীবনে নামাজের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, সফর-সফরান্তর, ব্যস্ততা কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যথাসম্ভব নামাজ আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান থাকা অপরিহার্য। কিন্তু দৈনন্দিন প্রয়োজনে আমাদের অনেক সময় বাস, ট্রেন, লঞ্চ, জাহাজ কিংবা বিমানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এ সময় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান— চলন্ত যানবাহনে কীভাবে নামাজ পড়বেন? দাঁড়ানো সম্ভব না হলে কী করবেন? কিবলামুখী হওয়া বা রুকু-সিজদা করা সম্ভব না হলে নামাজের বিধান কী হবে?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এতে যেমন নামাজের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, তেমনি রয়েছে অসুস্থতা, সফর ও অনিবার্য অসুবিধার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান। তবে অসুবিধার অজুহাতে বিনা চেষ্টায় নামাজের ফরজ শর্তগুলো পরিত্যাগ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রকৃত অপারগতার বিষয়টিও শরিয়ত উপেক্ষা করে না।

তাই চলুন, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা এবং ফিকহের আলোকে জেনে নেওয়া যাক— বাস, ট্রেন, বিমান ও নৌযানে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি এবং এ ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো কী।

১. সফরে নামাজ আদায়ের বিষয়ে কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা

ক. যথাসাধ্য নামাজ আদায় করতে হবে

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন—

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا

‘অতএব, তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো, শোনো এবং আনুগত্য কর।’ (সুরা আত-তাগাবুন: আয়াত ১৬)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর বিধান পালনে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করতে হবে। তবে কোন পরিস্থিতিতে নামাজের কোনো শর্ত শিথিল হবে, আর কোন ক্ষেত্রে পরে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে—তা সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধান ও মাজহাবের আলোকে নির্ধারণ করতে হবে।

খ. দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে বসে পড়ার বিধান

হজরত ইমরান ইবনু হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন—

صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ

‘তুমি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর। যদি তা না পার, তবে বসে আদায় কর। আর যদি তাও না পার, তবে কাত হয়ে আদায় কর।’ (বুখারি ১১১৭)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, প্রকৃত অক্ষমতার ক্ষেত্রে নামাজ আদায়ের পদ্ধতিতে ছাড় রয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো, রুকু ও সিজদা করার সুযোগ থাকলে শুধু সুবিধার জন্য সেগুলো বাদ দেওয়া যাবে না।

গ. কিবলামুখী হওয়ার নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ

‘অতএব, আপনি আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নিন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৪৪)

সাধারণ অবস্থায় ফরজ নামাজে কিবলামুখী হওয়া আবশ্যক। তাই যানবাহনে নামাজের সময়ও যথাসম্ভব কিবলার দিক নির্ধারণ করে সেদিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতে হবে। তবে প্রকৃত অপারগতা, নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং চলন্ত যানবাহনের সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে করণীয় নির্ভর করবে পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য ফিকহি বিধানের ওপর।

২. লঞ্চ বা নৌযানে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

লঞ্চ, নৌকা বা জাহাজে ভ্রমণকালে নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নৌযান স্থির, নাকি চলমান—তা বিবেচনা করা জরুরি।

ক. স্থির বা ঘাটে বাঁধা নৌযান

লঞ্চ বা নৌকা যদি ঘাটে এমনভাবে বাঁধা থাকে যে স্বাভাবিকভাবে স্থির থাকে, তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে, কিবলামুখী হয়ে পূর্ণ রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করতে হবে। নৌযান প্রচণ্ড বাতাসে অস্থিতিশীল হলে এবং নিরাপদে নেমে নামাজ পড়ার সুযোগ থাকলে নেমে নামাজ আদায় করা উত্তম।

খ. চলন্ত লঞ্চ বা নৌযান

নৌযান চলমান থাকলেও নিরাপদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদাসহ নামাজ পড়তে হবে। নৌযান ঘুরে যাওয়ার কারণে কিবলার দিক পরিবর্তিত হলে এবং অনুসরণ করা সম্ভব হলে কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে।

গ. অসুস্থতা, মাথা ঘোরা বা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে

যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অথবা দাঁড়ানো বাস্তবিকই সম্ভব না হয়, তাহলে বসে নামাজ আদায় করা যাবে। তবে বসে নামাজ আদায় করার সময়ও সক্ষম হলে স্বাভাবিকভাবে রুকু ও সিজদা করতে হবে। কেবল রুকু-সিজদা করতে অক্ষম হলেই ইশারার বিধান প্রযোজ্য হবে।

৩. ট্রেন ও বিমানে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

ট্রেনে নামাজ

ট্রেনে নামাজের ওয়াক্ত হলে প্রথমে এমন জায়গা খুঁজতে হবে, যেখানে নিরাপদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা যায়। প্রয়োজন হলে ট্রেনের কর্মীদের অনুমতি নিয়ে উপযুক্ত জায়গা ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিমানে নামাজ

বিমানে নামাজের ওয়াক্ত হলে কেবিন ক্রুর নির্দেশনা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে নামাজের উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে হবে। বিমানের চলাচল, টার্বুলেন্স কিংবা সিটবেল্টের নির্দেশনার কারণে দাঁড়ানো সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতির বিধান বিবেচনা করতে হবে।

ট্রেন ও বিমানে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা উচিত—

  • দাঁড়িয়ে নামাজ: নিরাপদে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। শরীর দুললে নিরাপত্তার জন্য কোনো কিছু ধরে দাঁড়ানো যেতে পারে।
  • কিবলামুখী হওয়া: সম্ভব হলে কিবলার দিক নির্ধারণ করে সেই দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে হবে। যাত্রাপথে দিক পরিবর্তন হলে সামর্থ্য অনুযায়ী কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে।
  • পূর্ণ রুকু-সিজদা: নিরাপদে ও যথাযথভাবে রুকু-সিজদা করার সুযোগ থাকলে তা আদায় করতে হবে। শুধু আসনে বসে নামাজ পড়ার সুবিধার জন্য দাঁড়ানো ও সিজদা বাদ দেওয়া যাবে না।
  • প্রকৃত অপারগতা: অতিরিক্ত ভিড়, নিরাপত্তাজনিত বাধা, দাঁড়ানোর জায়গা না থাকা কিংবা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে ফরজ নামাজের স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসরণ করা অসম্ভব হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে।

বিশেষ করে, সিটে বসে ইশারায় নামাজ পড়া এবং পরে তা পুনরায় আদায় করার বিধান সব পরিস্থিতিতে এক নয়। হানাফি ফিকহে ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে দাঁড়ানো, কিবলামুখী হওয়া বা যথাযথ সিজদা করার মতো শর্ত পূরণে অক্ষমতার কারণে যানবাহনে বসে নামাজ পড়লে অনেক ক্ষেত্রে পরে নামাজ পুনরায় আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। অন্যদিকে, অক্ষমতার প্রকৃতি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী আলেমদের বিশদ আলোচনা রয়েছে। তাই সম্ভব হলে যাত্রার আগেই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. চলন্ত বাসে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি

বাসে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি অসুবিধা দেখা যায়। অধিকাংশ বাসে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মতো জায়গা থাকে না, কিবলার দিক বজায় রাখাও কঠিন হয়। এ কারণে নিচের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা উত্তম।

প্রথম পদক্ষেপ: বাস থামিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা

নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চালক বা সুপারভাইজারকে অনুরোধ করে নিরাপদ কোনো স্থানে বাস থামানোর চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে কাছের মসজিদে অথবা উপযুক্ত নিরাপদ স্থানে নেমে অজু ও নামাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করতে হবে।

তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে এবং সেখানে পৌঁছে নামাজ পড়া সম্ভব হয়, তাহলে ওয়াক্তের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে নামাজ আদায় করা যেতে পারে।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: বাস না থামলে কী করবেন?

বাস থামানোর কোনো সুযোগ না থাকলে প্রথমে বিবেচনা করতে হবে, আসনে বসে বা নিরাপদ কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজের প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব কি না।

যদি নিরাপদে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়, তাহলে সেভাবেই নামাজ পড়তে হবে। যদি দাঁড়ানো সম্ভব না হয়, কিন্তু নিরাপদে বসে যথাযথ রুকু ও সিজদা করা সম্ভব হয়, তাহলে সেই পদ্ধতিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ বিবেচনা করতে হবে। যদি স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করা একেবারেই সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইশারায় নামাজ আদায়ের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

তৃতীয় পদক্ষেপ: সিটের সামনে মাথা ঠেকিয়ে সিজদা করার বিধান

অনেকে চলন্ত বাসে নিজের আসনে বসে সামনের সিটের পেছনে কপাল ঠেকিয়ে সিজদা করেন। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো বস্তুতে কপাল ঠেকানো হলেই তা শরিয়তসম্মত সিজদা হয়ে যায় না। সিজদার পদ্ধতি, মাথা নত করার মাত্রা এবং প্রকৃত অক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচ্য।

যদি যথাযথ সিজদা করা সম্ভব হয়, তাহলে তা বাদ দিয়ে শুধু সামনের সিটে কপাল ঠেকানো উচিত নয়। আর যথাযথ সিজদা একেবারেই সম্ভব না হলে ইশারায় নামাজ আদায় এবং পরে পুনরায় নামাজ পড়ার প্রয়োজন আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

চতুর্থ পদক্ষেপ: ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে

যদি বাস থামানো সম্ভব না হয় এবং নামাজের ওয়াক্তও শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে নামাজকে অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।

হানাফি ফিকহে এ ধরনের অনিবার্য পরিস্থিতিতে ওয়াক্তের সম্মান রক্ষার্থে যতটা সম্ভব নামাজের বাহ্যিক রূপ বজায় রেখে নামাজ আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করতে হলে পরে সেই নামাজ পুনরায় আদায় করা আবশ্যক হবে কি না, তা পরিস্থিতি ও ফিকহি বিধানের ওপর নির্ভর করে।

অতএব, ওয়াক্ত রক্ষার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে; কিন্তু সব অবস্থায় বসে ইশারায় পড়া নামাজ পরবর্তী সময়ে অবশ্যই কাজা করতে হবে—এমন একক সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষত হানাফি মাজহাব অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

৫. সফরে নামাজের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • অজু ও পবিত্রতা: সম্ভব হলে নামাজের আগে অজু করে নিতে হবে। পানি পাওয়া না গেলে বা পানি ব্যবহারে শরিয়তসম্মত অক্ষমতা থাকলে তায়াম্মুমের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
  • কিবলা নির্ধারণ: মোবাইলের কিবলা নির্দেশক বা অন্য নির্ভরযোগ্য উপায়ে কিবলার দিক নির্ধারণের চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে যন্ত্রের নির্দেশনার ওপর অন্ধভাবে নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনা করতে হবে।
  • নিরাপত্তা: চলন্ত বাস, ট্রেন বা বিমানে নামাজ পড়তে গিয়ে নিজের বা অন্য যাত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা যাবে না। যানবাহনের কর্মীদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মানতে হবে।
  • জমা ও কসর নামাজ: সফরে শরিয়তসম্মত দূরত্ব অতিক্রম করলে মুসাফিরের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে চার রাকাত ফরজ নামাজ দুই রাকাত পড়ার বিধান রয়েছে। তবে কসর ও দুই ওয়াক্তের নামাজ একত্র করার বিধান এক নয়; এ বিষয়ে নিজ মাজহাবের বিধান অনুসরণ করা উচিত।
  • বিশেষ পরিস্থিতিতে পরামর্শ: দীর্ঘ বিমানযাত্রা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কিংবা এমন যাত্রাপথ যেখানে কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে যাত্রার আগেই নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিধান জেনে নেওয়া ভালো।

৬. ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা

যানবাহনে নামাজ, ফরজ নামাজের শর্ত, দাঁড়ানোর সামর্থ্য, কিবলামুখী হওয়া এবং অনিবার্য অক্ষমতার কারণে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে হানাফি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে। 

নামাজ মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সফর, যানজট, দীর্ঘ পথ কিংবা যানবাহনের সীমাবদ্ধতা—কোনোটিই নামাজের প্রতি উদাসীন হওয়ার অজুহাত হতে পারে না। আবার ইসলাম মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তব অসুবিধাকেও গুরুত্ব দিয়েছে। তাই যানবাহনে নামাজের সময় প্রথমে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে, কিবলামুখী হয়ে, রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী শরিয়তের অনুমোদিত বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের উচিত, সফরের পরিকল্পনা করার সময় নামাজের ওয়াক্ত, অজু ও নামাজের উপযুক্ত স্থানের বিষয়টি আগেই বিবেচনায় রাখা। বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রায় চালক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে নামাজের জন্য বিরতির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, নামাজ শুধু একটি দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই আসুন, সফরে থাকি কিংবা বাড়িতে— যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, নামাজের প্রতি যত্নবান হই এবং সঠিক জ্ঞান ও আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর বিধান পালন করি।

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮৮; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১০২; ইলাউস সুনান, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২১২; জাওয়াহিরুল ফিকহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬২; মাআরিফুস সুনান, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৪–৩৯৬; ফাতাওয়া আলমগিরি (ফাতাওয়া হিন্দিয়া), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮ ও ১৪৪)

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ: শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ: শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

কুরআন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাসের ১৯ শিশুকে বাঁচান যুবক

কুরআন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাসের ১৯ শিশুকে বাঁচান যুবক

হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতায় ঢাকা দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত ৮ জন

সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ হিফজুল হাদিস প্রতিযোগিতায় ঢাকা দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত ৮ জন

জোহরের ফরজের আগের ৪ রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় কী?

জোহরের ফরজের আগের ৪ রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় কী?

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

ফরজ নামাজের স্থানেই কি সুন্নত পড়বেন, নাকি স্থান পরিবর্তন করা উত্তম?

ফরজ নামাজের স্থানেই কি সুন্নত পড়বেন, নাকি স্থান পরিবর্তন করা উত্তম?

আরও পড়ুন

হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ: শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ: শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

যানবাহনে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি ও শরয়ি বিধান

যানবাহনে নামাজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি ও শরয়ি বিধান

কালো জাদু থেকে রক্ষা পেতে যেসব আমল করবেন

কালো জাদু থেকে রক্ষা পেতে যেসব আমল করবেন

কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?

কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম