চুরি করতে এসে হৃদয়টাই চুরি হয়ে গেল
jugantor
শিক্ষণীয় গল্প
চুরি করতে এসে হৃদয়টাই চুরি হয়ে গেল

  ফরহাদ খান নাঈম  

১১ জুন ২০২১, ০২:৩৯:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

মালিক বিন দিনার (রহ.) ছিলেন বসরার একজন বিখ্যাত দরবেশ ও ধর্মপ্রচারক। তিনি তার গোটা জীবন ইসলামের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তিনি সর্বদা কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা করতেন।

মালিক বিন দিনার ৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার ইন্তিকালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো তিনি মুসলমানদের হৃদয়ে স্থান দখল করে আছেন। তাকে নিয়ে চমৎকার সব শিক্ষণীয় গল্প রয়েছে। এখানে তার মধ্য থেকে একটি তুলে ধরা হলো-

একবার মালিক বিন দিনার (রহ.) বাসায় নামাজ আদায় করছিলেন। এমন সময় এক চোর দেয়াল টপকে তার বাসায় ঢুকে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও চোরটি তার বাসায় তেমন কিছুই পেলো না। নামাজের মধ্যে মালিক বিন দিনার (রহ.) যখন বাসায় কারো অনুপ্রবেশ টের পেলেন, তিনি দ্রুত নামাজ শেষ করলেন।

নামাজ শেষ করতেই তিনি চোরটিকে ধরে ফেললেন। তিনি দেখলেন, বাসায় নেওয়ার মতো কিছু না পেয়ে চোরটি বিমর্ষ হয়ে খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মালিক বিন দিনার (রহ.) তাকে ভয় দেখালেন না; বরং সালামের মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানালেন।

তিনি চোরটিকে বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমায় ক্ষমা করুন! তুমি এখান থেকে কিছু নিয়ে যেতে এসেছিলে, কিন্তু কিছুই খুঁজে পাওনি। তবে আমি তোমাকে আমার বাসা থেকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেবো না। বাসার মালিকের কাছ থেকে এমন দরদমাখা কথা শুনে চোরটি রীতিমতো তাজ্জব বনে গেলো।

তিনি চোরটিকে ওজু করে এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে বললেন। তিনি বললেন, এর মাধ্যমে এখান থেকে তুমি সাথে করে অনেক বড় কিছু নিয়ে যেতে পারবে।

চোরটি তার কথা শুনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলো। মালিক বিন দিনার (রহ.) তাকে যত ইচ্ছে নামাজ আদায় করার অনুমতি দিলেন। চোরটি সারারাত নফল নামাজ আদায় করলো।
ভোরে যখন সূর্যোদয়ের সময় হলো, তখন তিনি চোরটিকে চলে যেতে বললেন। কিন্তু সে যেতে চাইলো না; বরং বললো, আমি আজ সারাদিন আপনার বাসায় থেকে রোজা রাখবো। একথা শুনে মালিক বিন দিনার (রহ.) অত্যন্ত খুশি হলেন এবং বললেন, তোমার যতক্ষণ ইচ্ছে তুমি আমার বাসায় থাকতে পারো।

এরপর থেকে চোরটি আজীবনের জন্য তার চৌর্যবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে গেলো। তার জীবনের মোড় ঘুরে গেলো।

সে এসেছিলো জিনিসপত্র চুরি করতে, কিন্তু তার বদলে সে পেয়েছিলো মালিক বিন দিনার (রহ.) এর মতো বুজুর্গকে। চোরটি চেয়েছিলো মালিক বিন দিনার (রহ.) এর থেকে চুরি করতে, কিন্তু চুরি করতে এসে তার হৃদয়টাই চুরি হয়ে গেল। এতে করে সেও আল্লাহর একজন খাঁটি বান্দায় পরিণত হলো।

শিক্ষণীয় গল্প

চুরি করতে এসে হৃদয়টাই চুরি হয়ে গেল

 ফরহাদ খান নাঈম 
১১ জুন ২০২১, ০২:৩৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মালিক বিন দিনার (রহ.) ছিলেন বসরার একজন বিখ্যাত দরবেশ ও ধর্মপ্রচারক। তিনি তার গোটা জীবন ইসলামের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তিনি সর্বদা কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা করতেন। 

মালিক বিন দিনার ৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার ইন্তিকালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো তিনি মুসলমানদের হৃদয়ে স্থান দখল করে আছেন। তাকে নিয়ে চমৎকার সব শিক্ষণীয় গল্প রয়েছে। এখানে তার মধ্য থেকে একটি তুলে ধরা হলো- 

একবার মালিক বিন দিনার (রহ.) বাসায় নামাজ আদায় করছিলেন। এমন সময় এক চোর দেয়াল টপকে তার বাসায় ঢুকে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও চোরটি তার বাসায় তেমন কিছুই পেলো না। নামাজের মধ্যে মালিক বিন দিনার (রহ.) যখন বাসায় কারো অনুপ্রবেশ টের পেলেন, তিনি দ্রুত নামাজ শেষ করলেন। 

নামাজ শেষ করতেই তিনি চোরটিকে ধরে ফেললেন। তিনি দেখলেন, বাসায় নেওয়ার মতো কিছু না পেয়ে চোরটি বিমর্ষ হয়ে খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মালিক বিন দিনার (রহ.) তাকে ভয় দেখালেন না; বরং সালামের মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানালেন। 

তিনি চোরটিকে বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমায় ক্ষমা করুন! তুমি এখান থেকে কিছু নিয়ে যেতে এসেছিলে, কিন্তু কিছুই খুঁজে পাওনি। তবে আমি তোমাকে আমার বাসা থেকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেবো না। বাসার মালিকের কাছ থেকে এমন দরদমাখা কথা শুনে চোরটি রীতিমতো তাজ্জব বনে গেলো। 

তিনি চোরটিকে ওজু করে এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে বললেন। তিনি বললেন, এর মাধ্যমে এখান থেকে তুমি সাথে করে অনেক বড় কিছু নিয়ে যেতে পারবে। 

চোরটি তার কথা শুনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলো। মালিক বিন দিনার (রহ.) তাকে যত ইচ্ছে নামাজ আদায় করার অনুমতি দিলেন। চোরটি সারারাত নফল নামাজ আদায় করলো। 
ভোরে যখন সূর্যোদয়ের সময় হলো, তখন তিনি চোরটিকে চলে যেতে বললেন। কিন্তু সে যেতে চাইলো না; বরং বললো, আমি আজ সারাদিন আপনার বাসায় থেকে রোজা রাখবো। একথা শুনে মালিক বিন দিনার (রহ.) অত্যন্ত খুশি হলেন এবং বললেন, তোমার যতক্ষণ ইচ্ছে তুমি আমার বাসায় থাকতে পারো। 

এরপর থেকে চোরটি আজীবনের জন্য তার চৌর্যবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে গেলো। তার জীবনের মোড় ঘুরে গেলো। 

সে এসেছিলো জিনিসপত্র চুরি করতে, কিন্তু তার বদলে সে পেয়েছিলো মালিক বিন দিনার (রহ.) এর মতো বুজুর্গকে। চোরটি চেয়েছিলো মালিক বিন দিনার (রহ.) এর থেকে চুরি করতে, কিন্তু চুরি করতে এসে তার হৃদয়টাই চুরি হয়ে গেল। এতে করে সেও আল্লাহর একজন খাঁটি বান্দায় পরিণত হলো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন