মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.), ক্ষণজন্মা এক সংগ্রামী সাধক
jugantor
মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.), ক্ষণজন্মা এক সংগ্রামী সাধক

  এইচ এম আবু বকর সিদ্দীক  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৫৮:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.), ক্ষণজন্মা এক সংগ্রামী সাধক

১৫ বছর আগে আজকের এই দিনে (২৫ নভেম্বর) নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন উপমহাদেশের গণমানুষের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক রাহবার আল্লামা সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.)। (১৯৩৫–২০০৬ ঈসায়ী)

ক্ষণজন্মা এই মহাপুরুষ ১৯৩৫ সালে বরিশালের চরমোনাই গ্রামের বিখ্যাত পীর পরিবারে মাওলানা সৈয়দ এছহাকের (রহ.) ঔরসে ও রাবেয়া খাতুনের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। বুজুর্গ পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে এবং দ্বীনী পরিবেশে তার শিক্ষার হাতেখড়ি হয়।

মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি নিজ গ্রাম চরমোনাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পাশাপাশি পিতা-মাতার যত্নে স্থানীয় মক্তবে পবিত্র কুরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং চরমোনাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর ১৯৪৫ সালে পিতার প্রতিষ্ঠিত চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে ফাযিল পাস করেন।

অতঃপর ১৯৫৬ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকার লালবাগ জামেয়া কুরআনিয়ায় ভর্তি হন। লালবাগ মাদ্রাসায় দু’বছর অধ্যায়ন করে ১৯৫৭ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

কাকতালীয়ভাবে লালবাগ মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিসের ১ম সাময়িক পরীক্ষায় ৩য়, ২য় সাময়িক পরীক্ষায় ২য় এবং ফাইনাল পরীক্ষায় ১ম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন সৈয়দ ফজলুল করীম।

দূরদর্শী ও নির্মোহ দাঈ

মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত করার সবক তিনি পেয়েছিলেন পারিবারিক ভাবেই। আকর্ষণীয় চরিত্র ছিল তার সহায়ক।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাঈমুল আহসান খানের একটি স্মৃতিচারণ উদ্ধৃত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, একবার ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে মাহফিল শেষে সবাই পীর সাহেব হুজুরের সঙ্গে দেখা করছে। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। দেখা করবো সেই সাহসটা পাচ্ছিলাম না। একটু অগ্রসর হই আবার পিছিয়ে যাই। একপর্যায়ে সবার সাক্ষাৎ শেষ হলে হুজুর আমাকে চমকে দিয়ে বললেন, ‘কি ভাই! আপনি কি আমার সঙ্গে দেখা করবেন না?’

আমি বললাম, হুজুর আমার কাছে তো টাকা নাই- কেমনে দেখা করবো! হুজুর তখন বলে ওঠলেন, ‘ভাই, আমি কি সাক্ষাতের সময় কারো কাছে টাকা চেয়েছি?’

বললাম, না, তাতো চাননি। তিনি বললেন, ‘যারা কিছু হাদিয়া দিয়েছে, তারা কি খুশি হয়েছে?’ বললাম, জ্বী, তারাতো খুশিই হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘যদি তাদের হাদিয়া গ্রহন না করতাম তাহলে? আমি বললাম, তাহলে তো অখুশি হতো।

এর পরে অগ্রসর হলাম। লক্ষ্য করেছিলাম হুজুর হাদিয়ার টাকা দুই পকেটে রাখছেন। কৌতুহল থেকে বেয়াদবের মতই প্রশ্ন করে বসলাম, হুজুর, দুই পকেটে কেন টাকা রাখছেন? বললেন, ‘ভাই, একপকেটের টাকা মাদ্রাসার জন্য অপর পকেটের টাকা আম (সাধারন) মেহমানদারির জন্য’। এরপর থেকে আমার সঙ্গে হুজুরের ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। সাক্ষাৎ হয়েছে জীবনে বহুবার।

ড. মাঈমুল আহসান খান বলেন, হযরত পীর সাহেব (রহ.) দুইটি ব্যাপারে আমার কাছে খুব উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। আশ্চর্যজনক ভাবে সেটা রাজনৈতিক বিষয়ে না। সে বিষয় দুটি ছিলো ১. বিচার ব্যবস্থা ২. শিক্ষা ব্যবস্থা।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) যেই বিচার ব্যবস্থার জন্য জীবন দিয়েছেন। পরে তারই শিষ্য আবু ইউসুফ তা গ্রহন করে ন্যায় ও সততার দৃষ্টান্ত কায়েম করেছেন।

হুজুরের দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো অত্যন্ত দূরদর্শী। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন গ্লোবালাইজেশন এখন সারাবিশ্বে সক্রিয়। ফিলিস্তিন, ইরাক, মিয়ানমার, বাংলাদেশ সমস্ত জায়গায় একই চিত্র। এসব অঞ্চলের জোয়ার ভাটা একই সূত্রে গাঁথা।

একারনেই পীর সাহেব (রহ.) বলতেন, রাজনৈতিক সংঘাত সংঘর্ষ সবযুগে সবখানে থাকবে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের মুসলমানিত্ব বজায় রাখবার জন্য এই দুটি জিনিস তথা শিক্ষা ও আইন বিভাগ সঠিক এবং অনমনীয় রাখবার বিকল্প নাই।

প্রফেসর ড. মাঈমুল ইসলাম খান আরো বলেন, আমি তার মধ্যে একই সঙ্গে সাহস এবং মেজাজ কন্ট্রোল করবার অদ্ভূত ক্ষমতা দেখে অভিভূত হতাম। তাকে কখনো নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার ব্যপারে হাপিত্যেশ করতে দেখিনি। বরং আমার মত জেনারেল শিক্ষিত মানুষের কাছে অনেক বিষয় জানতে চাইতেন। অথচ তিনিই ছিলেন একজন প্রথিতযশা পন্ডিত আলেম। বড়ই আশ্চর্য তার এই গুন।

কুরআন-সুন্নাহর নীতিতে অবিচলতা

২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটের লিয়াজু চলাকালে মরহুম প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনকে বললেন, ‘পীর সাহেব হুজুরের কী কারামাত আছে?’

যেহেতু এরশাদ সাহেব ইতোপূর্বে আটরশীর পীরের ভক্ত ছিলেন। তাই প্রশ্ন করলেন, ‘চরমোনাইর হুজুর কি জ্বীন হাসিল করতে পারেন?’

জবাবে আকন সাহেব বলেছিলেন, তিনি এযুগের বড় আলেম এবং বুজুর্গ। এরশাদ সাহেব জানতে চাইলেন সেটা কেমনে?

তিনি বললেন, ‘ইসলামের রাজনৈতিক সুন্নাত তিনি জিন্দা করেছেন। অসুস্থ রাজনীতিকে সুস্থ করেছেন। তিনি দীনের ব্যপারে আপোসহীন এবং অবিচল। এটাই তার কারামাত। এই জবাব শুনে প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব চুপসে গেলেন।

ছিলেন অকুতোভয় সিপাহসালার

ইসলাম ও দেশবিরোধী সকল আন্দোলনে পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুগপৎ সুফীবাদ ও রাজনীতির সংস্কারের প্রয়াস চালিয়েছেন তিনি।

ড. ঈসা শাহেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন ‘রুহবান ফিল লাইল ফুরসান ফিন নাহার’ তথা রাতের ইবাদাত গুজার এবং দিনের বেলায় সংগ্রামী একজন সিপাহসালার এর জন্য অধীর আগ্রহী হয়ে ওঠলো, পীর সাহেব চরমোনাইকে রহ. মানুষ তখন সর্বাগ্রে স্থান দিলো। তিনি একজন খানকার পীর হয়েও মুরীদ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজনীতিতে পিছপা হননি।

মহান আল্লাহ তার কবরকে রহমতের শিশিরে সিক্ত করুন। আমীন।

মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.), ক্ষণজন্মা এক সংগ্রামী সাধক

 এইচ এম আবু বকর সিদ্দীক 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.), ক্ষণজন্মা এক সংগ্রামী সাধক
মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.)। ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছর আগে আজকের এই দিনে (২৫ নভেম্বর) নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন উপমহাদেশের গণমানুষের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক রাহবার আল্লামা সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.)।  (১৯৩৫–২০০৬ ঈসায়ী) 

ক্ষণজন্মা এই মহাপুরুষ ১৯৩৫ সালে বরিশালের চরমোনাই গ্রামের বিখ্যাত পীর পরিবারে মাওলানা সৈয়দ এছহাকের (রহ.) ঔরসে ও রাবেয়া খাতুনের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। বুজুর্গ পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে এবং দ্বীনী পরিবেশে তার শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। 

মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি নিজ গ্রাম চরমোনাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পাশাপাশি পিতা-মাতার যত্নে স্থানীয় মক্তবে পবিত্র কুরআন শিক্ষা শুরু করেন এবং চরমোনাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর ১৯৪৫ সালে পিতার প্রতিষ্ঠিত চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে ফাযিল পাস করেন। 

অতঃপর ১৯৫৬ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকার লালবাগ জামেয়া কুরআনিয়ায় ভর্তি হন। লালবাগ মাদ্রাসায় দু’বছর অধ্যায়ন করে ১৯৫৭ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। 

কাকতালীয়ভাবে লালবাগ মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিসের ১ম সাময়িক পরীক্ষায় ৩য়, ২য় সাময়িক পরীক্ষায় ২য় এবং ফাইনাল পরীক্ষায় ১ম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন সৈয়দ ফজলুল করীম। 

দূরদর্শী ও নির্মোহ দাঈ 

মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত করার সবক তিনি পেয়েছিলেন পারিবারিক ভাবেই। আকর্ষণীয় চরিত্র ছিল তার সহায়ক। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাঈমুল আহসান খানের একটি স্মৃতিচারণ উদ্ধৃত করা যেতে পারে। 

তিনি বলেন, একবার ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে মাহফিল শেষে সবাই পীর সাহেব  হুজুরের সঙ্গে দেখা করছে। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। দেখা করবো সেই সাহসটা পাচ্ছিলাম না। একটু অগ্রসর হই আবার পিছিয়ে যাই। একপর্যায়ে সবার সাক্ষাৎ শেষ হলে হুজুর আমাকে চমকে দিয়ে বললেন, ‘কি ভাই! আপনি কি আমার সঙ্গে দেখা করবেন না?’ 

আমি বললাম, হুজুর আমার কাছে তো টাকা নাই- কেমনে দেখা করবো! হুজুর তখন বলে ওঠলেন, ‘ভাই, আমি কি সাক্ষাতের সময় কারো কাছে টাকা চেয়েছি?’ 

বললাম, না, তাতো চাননি। তিনি বললেন, ‘যারা কিছু হাদিয়া দিয়েছে, তারা কি খুশি হয়েছে?’ বললাম, জ্বী, তারাতো খুশিই হয়েছে। 

তিনি বললেন, ‘যদি তাদের হাদিয়া গ্রহন না করতাম তাহলে? আমি বললাম, তাহলে তো অখুশি হতো।

এর পরে অগ্রসর হলাম। লক্ষ্য করেছিলাম হুজুর হাদিয়ার টাকা দুই পকেটে রাখছেন। কৌতুহল থেকে বেয়াদবের মতই প্রশ্ন করে বসলাম, হুজুর, দুই পকেটে কেন টাকা রাখছেন? বললেন, ‘ভাই, একপকেটের টাকা মাদ্রাসার জন্য অপর পকেটের টাকা আম (সাধারন) মেহমানদারির জন্য’। এরপর থেকে আমার সঙ্গে হুজুরের ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। সাক্ষাৎ হয়েছে জীবনে বহুবার।

ড. মাঈমুল আহসান খান বলেন, হযরত পীর সাহেব (রহ.) দুইটি ব্যাপারে আমার কাছে খুব উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। আশ্চর্যজনক ভাবে সেটা রাজনৈতিক বিষয়ে না। সে বিষয় দুটি ছিলো ১. বিচার ব্যবস্থা ২. শিক্ষা ব্যবস্থা। 

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) যেই বিচার ব্যবস্থার জন্য জীবন দিয়েছেন। পরে তারই শিষ্য আবু ইউসুফ তা গ্রহন করে ন্যায় ও সততার দৃষ্টান্ত কায়েম করেছেন।

হুজুরের দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো অত্যন্ত দূরদর্শী। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন গ্লোবালাইজেশন এখন সারাবিশ্বে সক্রিয়। ফিলিস্তিন, ইরাক, মিয়ানমার, বাংলাদেশ সমস্ত জায়গায় একই চিত্র। এসব অঞ্চলের জোয়ার ভাটা একই সূত্রে গাঁথা। 

একারনেই পীর সাহেব (রহ.) বলতেন, রাজনৈতিক সংঘাত সংঘর্ষ সবযুগে সবখানে থাকবে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের মুসলমানিত্ব বজায় রাখবার জন্য এই দুটি জিনিস তথা শিক্ষা ও আইন বিভাগ সঠিক এবং অনমনীয় রাখবার বিকল্প নাই।

প্রফেসর ড. মাঈমুল ইসলাম খান আরো বলেন, আমি তার মধ্যে একই সঙ্গে সাহস এবং মেজাজ কন্ট্রোল করবার অদ্ভূত ক্ষমতা দেখে অভিভূত হতাম। তাকে কখনো নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার ব্যপারে হাপিত্যেশ করতে দেখিনি। বরং আমার মত জেনারেল শিক্ষিত মানুষের কাছে অনেক বিষয় জানতে চাইতেন। অথচ তিনিই ছিলেন একজন প্রথিতযশা পন্ডিত আলেম। বড়ই আশ্চর্য তার এই গুন।

কুরআন-সুন্নাহর নীতিতে অবিচলতা 

২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটের লিয়াজু চলাকালে মরহুম প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনকে বললেন, ‘পীর সাহেব হুজুরের কী কারামাত আছে?’ 

যেহেতু এরশাদ সাহেব ইতোপূর্বে আটরশীর পীরের ভক্ত ছিলেন। তাই প্রশ্ন করলেন, ‘চরমোনাইর হুজুর কি জ্বীন হাসিল করতে পারেন?’ 

জবাবে আকন সাহেব বলেছিলেন, তিনি এযুগের বড় আলেম এবং বুজুর্গ। এরশাদ সাহেব জানতে চাইলেন সেটা কেমনে? 

তিনি বললেন, ‘ইসলামের রাজনৈতিক সুন্নাত তিনি জিন্দা করেছেন। অসুস্থ রাজনীতিকে সুস্থ করেছেন। তিনি দীনের ব্যপারে আপোসহীন এবং অবিচল। এটাই তার কারামাত। এই জবাব শুনে প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব চুপসে গেলেন। 

ছিলেন অকুতোভয় সিপাহসালার 

ইসলাম ও দেশবিরোধী সকল আন্দোলনে পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুগপৎ সুফীবাদ ও রাজনীতির সংস্কারের প্রয়াস চালিয়েছেন তিনি। 

ড. ঈসা শাহেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন ‘রুহবান ফিল লাইল ফুরসান ফিন নাহার’ তথা রাতের ইবাদাত গুজার এবং দিনের বেলায় সংগ্রামী একজন সিপাহসালার এর জন্য অধীর আগ্রহী হয়ে ওঠলো, পীর সাহেব চরমোনাইকে রহ. মানুষ তখন সর্বাগ্রে স্থান দিলো। তিনি একজন খানকার পীর হয়েও মুরীদ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজনীতিতে পিছপা হননি। 

মহান আল্লাহ তার কবরকে রহমতের শিশিরে সিক্ত করুন। আমীন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন