Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

মৃতদের মাগফিরাতে যেসব আমল করবেন

Advertisement

Icon

মাহমুদ আহমদ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৪, ০১:৫৭ পিএম

মৃতদের মাগফিরাতে যেসব আমল করবেন

Advertisement

এ পৃথিবীতে কেউ স্থায়ী নয়। প্রকৃতিতে প্রত্যেক প্রাণীর জন্য মৃত্যুর চেয়ে সুনিশ্চিত বিষয় আর কিছুই নেই। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমার পূর্বেও কোনো মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং তোমরা আমার কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে’ (সূরা আম্বিয়া : আয়াত ৩৪-৩৫)।

প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যে মৃত্যু একটি অবশ্যম্ভাবী সত্য তা এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এ পৃথিবী বাহ্যত অত্যন্ত মধুময় ও আকর্ষণীয় বলে মনে হয় কিন্তু দুনিয়াটা আসলেই ছলনায় পূর্ণ। অল্প ক’দিনের এ দুনিয়ায় আমরা মেহমান মাত্র। তাই আমাদের উচিত হবে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে পুণ্য কাজ করা।

মৃত ব্যক্তিদের জন্য আমাদের করণীয় হলো, আমরা যেন তাদের জন্য দোয়া করি। 

মৃতদের জন্য পবিত্র কুরআনের এ দোয়াটি আমরা করব : ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়া লি ইখওয়ানিনাল্লাযিনা ছাবাকুনা বিল ইমানি ওয়ালা তাজআল ফি কুলুবিনা গিল্লাল লিল্লাযিনা আমানু রাব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রাহিম’ (সূরা হাশর : আয়াত ১০)। 

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের সেসব ভাইকেও ক্ষমা কর যারা আমাদের আগে ইমান এনেছে আর মুমিনদের প্রতি আমাদের হৃদয়ে কোনো বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি অতি স্নেহশীল ও বারবার কৃপাকারী।’

আমাদের আপনজন কেউ মারা গেলে তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় নিকটাত্মীয় জীবিতরা যে কাজগুলো অব্যাহত রাখতে পারেন এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মানবী (সা.) বর্ণনা করেছেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয় না। ক.) সদকায়ে জারিয়া খ.) যদি কেউ এমন সন্তান রেখে যায়, যে সন্তান বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবে গ.) এমন দ্বীনি শিক্ষা রেখে যায়, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে।’ (মুসলিম)

সুরা মুলক তিলাওয়াতে মিলবে যেসব ফজিলত

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক সাহাবি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা হঠাৎ মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি কোনো ওসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে দান-সদকা করতেন। আমি তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে কি তিনি এর সওয়াব পাবেন? তিনি (সা.) বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন’ (বোখারি ও মুসলিম)।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এ অবস্থায় যে, তার ওপর রোজা ফরজ ছিল তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিশরা রোজা রাখবে’ (বোখারি ও মুসলিম)।

তবে কারও মৃত্যুর পর তার জন্য বিলাপ করে কান্না করা, মাতম করা, পকেট ছেঁড়া, গালে বা পিঠে আঘাত করা ইসলামের নিষেধ। যে ব্যক্তি এমন করে তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মতের বাইরের লোক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গালে থাপ্পড় মারে, পকেট ছিঁড়ে ফেলে ও জাহিলিয়াতের রীতিনীতির প্রতি আহ্বান করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (বোখারি)। 

আমাদের উচিত, মৃত ব্যক্তির ভালো কাজকে স্মরণ ও প্রকাশ করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজগুলোর আলোচনা করো এবং মন্দ কাজের আলোচনা থেকে বিরত থাকো।’ (আবু দাউদ) 

কেউ মারা গেলে কুলখানি এবং চল্লিশা করার কোনো শিক্ষা ইসলামে নেই বরং মৃতের শোকাহত পরিবারের জন্য খাবার আয়োজন করার নির্দেশ করেছে ইসলাম (আবু দাউদ)।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

সফর ও যানবাহনে নিরাপদ থাকার দোয়া

 

Advertisement

মৃত মাগফিরাত যেসব আমল

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম