অনলাইনে জমির মালিকানা বের করবেন যেভাবে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জমি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, পৈতৃক সূত্রে বা নিজের নামে জমি থাকলেও সঠিক তথ্যের অভাবে আমরা তা জানতে পারি না। অনলাইনে জমির মালিকানা বের করার নিয়ম এবং জমির খতিয়ান চেক করার সহজ পদ্ধতি যেভাবে জানব-
১. খতিয়ান ও পর্চা কী? কেন এটি প্রয়োজন?
সহজ কথায়, খতিয়ান হলো জমির মালিকানা প্রমাণ করার জন্য সরকারি প্রাথমিক দলিল। জমি জরিপ করার সময় মালিকের নাম, দাগ নম্বর এবং হিস্যা অনুযায়ী যে রেকর্ড তৈরি করা হয়, তাকেই খতিয়ান বলে। গ্রামের সাধারণ ভাষায় একে অনেক সময় ‘পর্চা’ বলা হয়। মূলত খতিয়ান ও পর্চা একই জিনিস।
২. খতিয়ানে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে
একটি পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান বা পর্চা থেকে আপনি নিচের তথ্যগুলো জানতে পারবেন:
মালিকানা তথ্য: মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
জমির বিবরণ: মৌজা নম্বর, খতিয়ান নং এবং দাগ নম্বর।
জমির পরিমাণ: জমির মোট এরিয়া এবং কত শতাংশ জমি আপনার দখলে।
খাজনার বিবরণ: খাজনার পরিমাণ এবং নির্ধারণের কারণ।
সীমানা: জমির দখলদার ও সীমানার বর্ণনা।
৩. বাংলাদেশে খতিয়ান কত প্রকার?
বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রধানত চার ধরনের খতিয়ান প্রচলিত আছে। আপনার জমিও এর যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
সিএস (CS) খতিয়ান: ১৯৪০ সালের ব্রিটিশ আমলের প্রথম জরিপ।
এসএ (SA) খতিয়ান: ১৯৫৬-১৯৬০ সালের জমিদারি প্রথা বিলোপের সময়কার জরিপ।
আরএস (RS) খতিয়ান: সরকারের উদ্যোগ নেওয়া আধুনিক জরিপ (১৪৪ ধারা)।
বিএস (BS) খতিয়ান: ১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া বর্তমানের চলমান সিটি জরিপ।
৪. অনলাইনে জমির মালিকানা বের করার নিয়ম
এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে গিয়ে ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই করা যায়।
অনলাইনে মালিকানা যাচাইয়ের ধাপসমূহ:
- প্রথমে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট land.gov.bd অথবা eporcha.gov.bd-এ প্রবেশ করুন।
- হোমপেজ থেকে ‘খতিয়ান অনলাইন আবেদন’ বা ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ অপশনটি নির্বাচন করুন।
- আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা নির্বাচন করুন।
- খতিয়ানের ধরন (CS, SA, RS বা BS) সিলেক্ট করুন।
- এরপর মালিকের নাম, দাগ নম্বর বা খতিয়ান নম্বর দিয়ে সার্চ করুন।
- সঠিক তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার স্ক্রিনে জমির মালিকানা ও খতিয়ানের বিস্তারিত চলে আসবে।
৫. জমির মালিকানা বের করা কেন জরুরি?
জমি ক্রয়-বিক্রয় বা পৈতৃক সম্পদ বুঝে পাওয়ার ক্ষেত্রে মালিকানা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
প্রতারণা রোধ: জমি কেনার আগে সঠিক মালিক কে তা জানলে দালালের খপ্পরে পড়ার ভয় থাকে না।
ওয়ারিশ সম্পত্তি উদ্ধার: বাবা-দাদার রেখে যাওয়া জমি অনলাইনে খুঁজে বের করা যায়।
ভুল সংশোধন: নিজের নামে জমি আছে কি না বা থাকলে কতটুকু আছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
৬. অফলাইনে জমির মালিকানা যাচাই
অনলাইনে কোনো কারণে তথ্য না পাওয়া গেলে আপনি সরাসরি নিকটস্থ উপজেলা ভূমি অফিস বা তহশিল অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের ভলিউম চেক করতে পারেন। এতে আপনার জমির তথ্যের শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: অনলাইনে কি সব খতিয়ান পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ মৌজার আরএস এবং বিএস খতিয়ান অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তবে কিছু দুর্গম এলাকার তথ্য এখনও প্রক্রিয়াধীন থাকতে পারে।
প্রশ্ন: অনলাইন কপি কি আইনগত কাজে ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: অনলাইন কপি শুধুমাত্র দেখার বা তাৎক্ষণিক তথ্য জানার জন্য। অফিসিয়াল বা আইনি কাজে ব্যবহারের জন্য আপনাকে অনলাইন থেকে সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করতে হবে।


