ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি এড়াতে কি নিয়ে সতর্কতা জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাম্প্রতিক যে ধরনের অসুখ বা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকেরা চিন্তিত, তার মধ্যে ফ্যাটি লিভার একটি। মদ্যপান, ধূমপানে লিভারের ক্ষতির কথা সকলেই জানেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মাথাব্যথার কারণ হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাপন। বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বিপদ দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ ফ্যাটি লিভার বিষয়টি এতটাও সাধারণ নয়। শুরুতেই এ নিয়ে সতর্ক না হলে লিভারের ক্ষতি অনিবার্য।
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি এড়াতে দৈনন্দিন জীবনচর্চায় কি পরিবর্তন আনা জরুরি? কোন খাবার খেলে লিভারের স্বাস্থ্য বজায় থাকবে এ সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ দেখে নেওয়া যাক।
খারাপ খাদ্যাভ্যাস: ভাত-রুটির মতো খাবার বাদ দিয়ে অনেকেই পাস্তা, পিৎজা, বার্গার সহ ভাজাপোড়া বেছে নিচ্ছেন। এই ধরনের বেশি ক্যালোরি এবং ফ্যাটযুক্ত খাবার লিভারের ক্ষতি করে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন প্রক্রিয়াজাত, হিমায়িত খাবারের বিপদ সম্পর্কে। এছাড়াও বেশি চিনি ও লবণযুক্ত খাবার লিভারের ক্ষতি করে।
শরীরচর্চার অভাব: বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি থেকে কাজ করতে অভ্যস্ত। কেউ রাত জেগে কাজ করেন। কারো কাজ চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে হাঁটা-চলা করা হয় না বললেই চলে। শরীরচর্চা তো আরও পরের বিষয়। দীর্ঘক্ষণ টানা বসে কাজ করার ফলে শারীরিক শ্রম একেবারেই না হওয়ায় মেদ জমার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্থূলত্ব: অনেকেরই সারা শরীরের চেয়ে বেশি মেদ জমে পেটে। এই দিকটি লিভারের জন্য ক্ষতিকর। এটিও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ডায়াবেটিস: ইনসুলিন হরমোন ঠিকভাবে কাজ না করলে এবং ডায়াবেটিস থাকলেও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনসুলিন কোষে ঠিকমতো কাজ না করলে, তা লিভারে ফ্যাট জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোন খাবার ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়, কোনটাই বা খাওয়া দরকার?
এ সম্পর্কে একজন পেটের রোগের চিকিৎসকের মতামত জেনে নেওয়া যাক- কোন খাবারগুলো লিভারের ক্ষতি করে এবং কোন খাবারগুলো খেতে হবে।
তেল: এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। সালাদে মিশিয়ে তা খাওয়া যেতে পারে। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। এছাড়াও আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখে।
আবার একই তেলে বারবার কোনো কিছু ভাজা হলে সেটি লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। অলিভ অয়েল অল্প ব্যবহার করে রান্না করলে ঠিক আছে। কিন্তু এই অলিভ অয়েলেই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা পকোড়া ভাজতে গেলে এবং একই তেল ব্যবহার করে বারবার রান্না হলে তা লিভারের ক্ষতি করবে।
স্ন্যাক: বাদাম, বীজ যেমন আখরোট, কাঠবাদাম, কুমড়া, তিসির বীজ এগুরো ফ্যাটি লিভারের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং লিভার ভাল রাখতে পরিমিত পরিমাণে বাদাম, বীজ খাওয়া জরুরি। এসব বাদ দিয়ে প্যাকেটজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
কার্বোহাইড্রেট: ওটস, বার্লি, মিলেটে যে কার্বোহাইড্রেট থাকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এই ধরনের কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়িয়ে দেয় না, লিভারের জন্যও তা ভাল। তবে ময়দা, সাদা পাউরুটি, কেক, পেস্ট্রি এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

