Logo
Logo
×
   

Advertisement

টিপস

শিশুর ওজন না বাড়লে আতঙ্কিত না হয়ে যেসব সতর্কতা দরকার

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

শিশুর ওজন না বাড়লে আতঙ্কিত না হয়ে যেসব সতর্কতা দরকার

Advertisement

শিশু যদি ঠিকমতো খায়, তবুও যদি ওজন না বাড়ে, তাহলে অনেক বাবা-মায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। আশপাশের অন্যান্য শিশুর সঙ্গে তুলনা, নানা ধরনের খাবার দেওয়ার চেষ্টা, এমনকি জোর করে খাওয়ানো—এই সব চেষ্টার পরও যদি কোনো ফল না মেলে, তাহলে চিন্তা আরও বেড়ে যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুর ওজন না বাড়া মানে যে কোনো বড় সমস্যা তা নয়, সঠিক পরিকল্পনা ও গাইডলাইন অনুসরণ করলে সুস্থভাবে ওজন বাড়ানো সম্ভব।

শিশুর ওজন না বাড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় শিশুর শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি পাচ্ছে না, আবার খাবার খাওয়ার পরও যদি শরীর সঠিকভাবে পুষ্টি শোষণ না করতে পারে, তখনও ওজন বাড়ে না। কিছু ক্ষেত্রে, অসুস্থতা বা অতিরিক্ত শারীরিক কার্যকলাপের কারণে শিশুর ক্যালোরির চাহিদা বেড়ে যায়।

অনেক বাবা-মা মনে করেন, শিশু কম খাচ্ছে বলেই ওজন বাড়ছে না, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে। তাই কারণে না জেনে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। শিশুর ওজন না বাড়লে তাকে অসুস্থ ভাবাও ঠিক নয়।

শিশুকে জোর করে খাওয়ানো বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো কোনো সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে শিশুর খাবারের প্রতি ভয় বা অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই শিশুকে জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট থেকেও তাকে দূরে রাখতে হবে। সঠিক বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে উপযুক্ত খাবারই যথেষ্ট, অতিরিক্ত কিছু প্রয়োজন নেই। এখানে বাবা-মায়ের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিটি শিশুর চাহিদা আলাদা, তাই অন্য শিশুদের সঙ্গে তুলনা না করে তার বয়স, উচ্চতা, ওজন ও দৈনন্দিন কার্যকলাপ অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনা করা উচিত। ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শর্করা (ভাত, রুটি, আলু), স্বাস্থ্যকর চর্বি (দুধ, ঘি, পনির), এবং পুষ্টিকর পানীয় (স্মুদি, মিল্কশেক) খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে। খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর নাস্তা করা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর ওজন কম কি না, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বা গ্রোথ চার্ট ব্যবহার করেন। বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা ও ওজন অনুসারে শিশুর অবস্থা নির্ধারণ করা হয়। যদি হঠাৎ করে ওজন কমে যায় বা দীর্ঘদিন ধরে কোনো পরিবর্তন না আসে, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

যদি শিশুর ওজন নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, খাওয়ার অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দেয়, অথবা নিজে কোনো উন্নতি না দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হয়।

শিশুর ওজন না বাড়া মানে বাবা-মায়ের ব্যর্থতা নয়। সঠিক গাইডলাইন পেলেই সুস্থভাবে শিশুর ওজন বাড়ানো সম্ভব। শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা, ধৈর্য এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম