হঠাৎ হাতে প্রচণ্ড ব্যথা: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
হাতের ব্যথার কারণ, লক্ষণ ও করণীয়। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হাতের ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। হঠাৎ আঘাত, অতিরিক্ত ব্যবহার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রোগ—বিভিন্ন কারণে হাত বা কবজিতে ব্যথা হতে পারে। কখনও মচকানো বা হাড় ভাঙার কারণে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে। হাতের গঠন জটিল হওয়ায় ব্যথার উৎস নির্ণয় কখনও কঠিন হয়ে পড়ে।
হাতের ব্যথার ধরন
হাতের ব্যথাকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—
১. তীব্র ব্যথা (অ্যাকিউট): হঠাৎ আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণে হয়।
২. দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা (ক্রনিক): দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং কোনো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
হাতের ব্যথার সাধারণ কারণ
হাতে ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন—
- আঘাত, মচকানো বা হাড় ভাঙা
- লিগামেন্ট বা টেন্ডনের ক্ষতি
- অতিরিক্ত কাজ বা বারবার একই ধরনের নড়াচড়া
- প্রদাহ বা সংক্রমণ
- স্নায়ু চাপা পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
- পুরোনো আঘাতের প্রভাব
- বাতজনিত রোগ
হাতের ওপর ভর দিয়ে পড়ে গেলে কবজির হাড় ভেঙে যেতে পারে, যাকে কলিস ফ্র্যাকচার বলা হয়। আবার দীর্ঘ সময় একইভাবে কবজির কাজ করলে টেন্ডনে প্রদাহ বা ব্যথা দেখা দিতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট রোগ
কারপাল টানেল সিনড্রোম: কবজির স্নায়ু চাপে পড়লে আঙুলে ঝিনঝিনি, অসাড়তা ও ব্যথা হয়।
টেন্ডোনাইটিস: টেন্ডনে প্রদাহ হলে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দেয়।
ডি কোয়ারভেইন রোগ: কবজির বাইরের দিকে টেন্ডনের প্রদাহে ব্যথা হয়।
আর্থ্রাইটিস: বয়স বাড়ার সঙ্গে জয়েন্ট ক্ষয় হয়ে হাত ব্যথা হতে পারে।
গ্যাংলিয়ন সিস্ট: কবজিতে তরলভর্তি ছোট পিণ্ড তৈরি হয়ে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রিগার ফিঙ্গার: আঙুল বাঁকানো অবস্থায় আটকে গিয়ে ব্যথা হতে পারে।
হাতের ব্যথার লক্ষণ
হাতের ব্যথার সঙ্গে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
- জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া
- আঙুল নড়াতে অসুবিধা
- অসাড়তা বা ঝিনঝিনি অনুভূতি
- ফোলাভাব
- জয়েন্টে ব্যথা বা প্রদাহ
- আঙুল বা কবজিতে পিণ্ড
- নড়াচড়ার সময় শব্দ হওয়া
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়
হাতের ব্যথার কারণ জানতে চিকিৎসক সাধারণত হাত পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বলেন, যেমন—
- এক্স-রে
- আলট্রাসাউন্ড
- সিটি স্ক্যান বা এমআরআই
- রক্ত পরীক্ষা
হাতের ব্যথার চিকিৎসা
চিকিৎসা নির্ভর করে ব্যথার কারণ ও তীব্রতার ওপর।
সাধারণ করণীয়গুলো হলো—
- আক্রান্ত হাত বিশ্রামে রাখা
- বরফ সেঁক দেওয়া (১৫–২০ মিনিট)
- প্রয়োজন হলে গরম সেঁক দেওয়া
- হাতের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো
- হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং
- প্রয়োজন হলে স্প্লিন্ট বা রিস্টব্যান্ড ব্যবহার
সামান্য আঘাতে বরফ দিলে উপকার পাওয়া যায়। তবে হাড় ভাঙলে বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
ব্যথানাশক ওষুধে সতর্কতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবনে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন—
- উচ্চ রক্তচাপ
- হৃদ্রোগের ঝুঁকি
- ত্বকে ফুসকুড়ি
- শ্বাসকষ্ট
- পেপটিক আলসার
- কিডনি সমস্যা
- পাকস্থলীর ক্ষতি
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
নিচের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
- ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে
- আঘাতের পর ব্যথা ও ফোলা না কমলে
- রাতে ব্যথা বাড়লে
- অসাড়তা বা দুর্বলতা দেখা দিলে
- হাত নড়াচড়া করা কঠিন হলে
সব ধরনের হাতের ব্যথায় ওষুধ প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘমেয়াদি বা তীব্র ব্যথা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

