Logo
Logo
×

লাইফ স্টাইল

ত্রিশের পরে মা হতে চাইলে যা জানা জরুরি

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

ত্রিশের পরে মা হতে চাইলে যা জানা জরুরি

অনেক প্রজনন বিশেষজ্ঞ প্রায়ই একটি কথা শোনেন—‘আমার হাতে এখনও অনেক সময় আছে।’ অনেক নারীই এটা মনে করেন, যেহেতু তাদের মাসিক নিয়মিত এবং তারা সুস্থ আছেন, তাই যে কোনো সময়ই তারা গর্ভধারণ করতে পারবেন।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এই স্বাভাবিক পরিবর্তন সাধারণত ত্রিশের শুরুর দিক থেকেই শুরু হয় এবং ৩৫ বছরের পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একজন নারী জন্মগতভাবেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মজুত ডিম্বাণুর পরিমাণ ও গুণমান হ্রাস পায়। ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ নির্ণয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (এএমএইচ), যার মাত্রা বয়স বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এএমএইচ কম থাকলে বোঝায়, গর্ভধারণের জন্য উপলব্ধ ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে এসেছে। অনেকেই বুঝতে পারেন না যে এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটছে।

ফার্টিলিটি হ্রাসের বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এটি সাধারণত নীরবে ঘটে এবং তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। মাসিক স্বাভাবিক থাকতে পারে, শারীরিক অবস্থাও ভালো থাকতে পারে। অনেক নারী দীর্ঘ সময় গর্ভধারণের চেষ্টা করার পরই বুঝতে পারেন যে তাদের প্রজননক্ষমতা কমে গেছে।

এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর জিনগত মানও প্রভাবিত হয়। ফলে ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে, যা ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে এবং গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বাড়ায়।

তবে ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণ অসম্ভব নয়। অনেক নারী স্বাভাবিক উপায়ে কিংবা চিকিৎসার সহায়তায় মধ্য বা পরবর্তী বয়সে সন্তান জন্ম দেন। তাই নিজের শরীরের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। ফার্টিলিটি ও বয়স সম্পর্কিত সঠিক তথ্য জানা থাকলে ক্যারিয়ার, সম্পর্ক ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

ফার্টিলিটি পরীক্ষা সম্পর্কেও সচেতনতা প্রয়োজন। এএমএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আল্ট্রাসাউন্ড করে অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট (এএফসি) নির্ণয় করা হয়, যা ডিম্বাশয়ে থাকা বিকাশমান ফলিকলের সংখ্যা জানায়। যদিও এসব পরীক্ষা নিশ্চিতভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না, তবে নির্দিষ্ট সময়ে প্রজনন সক্ষমতা সম্পর্কে একটি বাস্তবসম্মত ধারণা দেয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম