Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

রোজায় সুস্থ থাকতে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

রোজায় সুস্থ থাকতে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি

রোজায় সুস্থ থাকতে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। ফাইল ছবি

Advertisement

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিরাপদ ও সুস্থভাবে রোজা রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন খাওয়ার সময় তুলনামূলক কম থাকায় এ সময় শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও পানির চাহিদা পূরণে খাবারের মানের দিকে বেশি নজর দেওয়া দরকার। সব সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ হলেও অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য ইসলামে ছাড় রয়েছে।

রোজা শরীরে কী প্রভাব ফেলে

রোজার সময় আবহাওয়া ও দিনের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে অনেকেই হালকা পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। এতে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করলে দিনের বেলায় হারানো তরল পূরণ করা সম্ভব।

যারা নিয়মিত চা বা কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে রোজার শুরুতে ক্যাফেইনের অভাবে মাথাব্যথা বা অবসাদ দেখা দিতে পারে। তবে কিছুদিন পর শরীর এ অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

ইফতার ও সেহরিতে কী খাবেন

সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করা ভালো। প্রথমে পানি ও হালকা খাবার দিয়ে শুরু করলে শরীরের জন্য তা সহায়ক হয়। ফল, শাকসবজি, দই, স্যুপ বা স্টুর মতো তরলসমৃদ্ধ খাবার শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ লবণ তৃষ্ণা বাড়ায়।

সেহরি অবশ্যই নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন। সেহরিতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে তা দিনের বেলায় শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি

রমজানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন থাকে। তবে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ক্রিমি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে। তাই এ সময় পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করা ভালো। বরং রমজানকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার একটি সুযোগ হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে।

খেজুর ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব

খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে যা দ্রুত শক্তি জোগায়। পাশাপাশি এতে পটাসিয়াম, তামা ও ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ উপাদান এবং ফাইবার রয়েছে। খেজুরের পাশাপাশি এপ্রিকট, ডুমুর, কিশমিশ বা আলুবোখারার মতো শুকনো ফলও খাওয়া যেতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও পানির ঘাটতির কারণে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই ইফতার ও সেহরিতে আটা শস্য, ফল, শাকসবজি, ডাল, মটরশুটি, বাদাম ও শুকনো ফলের মতো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং ইফতারের পর হালকা হাঁটার মতো শারীরিক ব্যায়ামও উপকারী।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোজার সময় পানিশূন্যতা বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে, বিশেষ করে গরম ও দীর্ঘ দিনের সময়। ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে অনেক ডায়াবেটিস রোগী আধ্যাত্মিক কারণে রোজা রাখতে চান। এ ক্ষেত্রে তাদের আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম