সন্তানের সর্দি-কাশি, ঠান্ডা খাবারকে দোষ না দিয়ে জেনে নিন কারণ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিশুর কাশি বা সর্দিতে ভুগলে প্রথমেই দোষ পড়ে ঠান্ডা খাবারের ওপর। আইসক্রিম খেয়েছে, ঠান্ডা পানি খেয়েছে, তাই সর্দি-জ্বর হয়েছে—এ ধারণা সম্পূর্ণ সত্য নয়। বরং সমস্যার আসল কারণ অন্য জায়গায়। ঠান্ডা খাবারের সঙ্গে এই সংক্রমণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খেলেই যে সর্দি-কাশি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
এ বিষয়ে শিশুরোগ চিকিৎসক নন্দিতা সাহা বলেছেন, কাশি-সর্দির মূল কারণ হলো—খাবারের তাপমাত্রা নয়, ভাইরাস সংক্রমণ। শিশুর মধ্যে যে সাধারণ সর্দি বা কাশি হয়, তা মূলত বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে ছড়ায়। এই জীবাণুগুলো বাতাসের মাধ্যমে, হাঁচি-কাশি বা যে ব্যক্তি এ রোগে ভুগছেন, তার সংস্পর্শে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ঠান্ডা খাবারের সঙ্গে এই সংক্রমণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খেলে সর্দি-কাশি হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাহলে ভুল ধারণা তৈরি হলো কীভাবে? অনেক সময়ে দেখা যায়, শিশু ঠান্ডা কিছু খাওয়ার পরই তার সর্দি বা কাশি শুরু হয়েছে। কিন্তু আসলে ভাইরাস শরীরে আগে থেকেই ছিল। শুধু লক্ষণটা তখন প্রকাশ পেয়েছে। ফলে দুটির মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হয় কেবল।
তবে এ কথা ঠিক যে, ঠান্ডা খাবার খেলে কখনো-সখনো গলায় সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যেমন হালকা জ্বালা বা খুশখুশে অনুভূতি। কিন্তু এটি সংক্রমণ নয়, আর দ্রুত সেরে যেতে পারে। বড়জোর আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিঙ্ক খেলে পেটে সংক্রমণ হতে পারে বা পেটখারাপ হতে পারে। অন্যদিকে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের লক্ষণ আলাদা। যেমন— নাক দিয়ে পানি পড়া, বারবার কাশি, জ্বর, ক্লান্তি—এসব একসঙ্গে দেখা যায় এবং বেশ কয়েক দিন ধরে থেকে যায়। এ লক্ষণগুলোই আসলে সতর্কবার্তা। তাই শিশুর সর্দি-কাশির জন্য আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয়কে দোষ দেওয়ার আগে বাস্তবটা বোঝা জরুরি। কারণ সমস্যার মূল যদি ভাইরাস হয়, তাহলে সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে, কেবল খাবারের ওপর নয়।
