ফ্যাশনে নতুনত্ব আনলেন নীতা আম্বানি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
নীতা আম্বানি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতীয় ধনকুবের মুখেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। সমাজসেবক। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মালিক। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসনও তিনি। কিন্তু ব্যবসার বাইরেও তিনি একজন নারী। রয়েছে তারও হাজার রকম শখ। তিনি চাইলে যখন যা খুশি করতে পারেন। তার শখ পূরণে কোনো বাধা নেই। সোনার পিয়ালায় চা পান করেন। বিশ্বের অন্যতম দামি পানি পান করেন। 'অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানি' পানি খান তিনি। একটি ৭৫০ মিলিলিটার বোতল পানির দাম প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি।
নীতা আম্বানির কাছে অধরা নয় কোনো কিছুই। সংগ্রহে দামি দামি গহনা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যপূর্ণ শাড়ি। ফ্যাশনসচেতন এই নারীর শাড়ি সংগ্রহ অনেকেরই কাছেই স্বপ্নের মতো। নীতার শাড়ি, গহনা যেন তার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়, যা দেখে মুগ্ধ হন প্রায় সবাই।
ছেলের বিয়ে হোক কিংবা মেয়ের, অথবা যে কোনো অনুষ্ঠানে তার সাজগোজে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। শাড়ির বিষয়ে আবার নীতা আম্বানি বরাবরই বিচক্ষণ। শুধু গহনায় নয়। তার সংগ্রহে দেশের নানা প্রান্তের বিখ্যাত শাড়ি রয়েছে, যা দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।
মুখেশপত্নীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামদানি। গত এপ্রিলে স্বামী মুকেশ আম্বানির জন্মদিনে একটি লাল ঢাকাই মসলিন পরতে দেখা গিয়েছিল তাকে। তার সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ। শাড়ির সঙ্গে পরেছিলেন সোনার হারও। তাতে হিন্দু দেবদেবীর প্রতিচ্ছবি। কানের দুলেও ধর্মীয় নান্দনিকতার ছাপ রয়েছে। মেকআপ বেশ ছিমছাম। হালকা কাজল, আইলাইনার যেন তাকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। ঠোঁটে নিউড শেডের লিপস্টিক। মৃদু ঢেউখেলানো খোলা চুলে তিনি সত্যিই অনন্যা।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে 'টাইম ১০০' সামিটে পরার জন্য জামদানি বেছে নেন নীতা আম্বানি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো— ওই জামদানিটি তৈরি করেছেন বাংলার তাঁতশিল্পী। ফুলিয়ার পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত তাঁতশিল্পী বীরেন বসাক শাড়িটি তৈরি করেছেন। গোটা শাড়িটিতে মীনাকারি কাজ। উপজাতীয় মোটিফ শাড়িটির আভিজাত্যের প্রতীক। শাড়িটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। দাম ৫ লাখ টাকা। এই শাড়িটির সঙ্গে একেবারে হালকা কাজের রংমিলান্তি ব্লাউজ পরেন। গলায় মুক্তোর মালা। হাতে চুড়ি। তাতে সবুজ পাথর। কানের দুলে পান্নার মতো সবুজ রঙের পাথর দেওয়া কানের দুল। বাঁ হাতের অনামিকায় কানের দুলের সঙ্গে মানানসই আংটি।
নীতা আম্বানি মূলত 'স্বদেশ' উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের হারিয়ে যাওয়া তাঁতের শাড়িকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। সে কারণেই বাংলার জামদানিকে তিনি বেছে নেন। যা তাঁকে আরও মোহময়ী করে তুলেছে।
'টাইম ১০০' সামিটে হাতে বোনা বেনারসি শাড়িও পরেছিলেন এ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন। সেলেব ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার ব্লাউজ পরেছিলেন তিনি। সঙ্গে মানানসই গহনা ছিল। আর হালকা মেকআপ— সব মিলিয়ে অন্যবদ্য মুকেশপত্নী। তার আগে 'চেতক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস' অনুষ্ঠানে সব্যসাচীর ডিজাইনে আকাশতারা শাড়ি পরেন, যা আগে তার মেয়ে ইশা আম্বানিকেও পরতে দেখা গিয়েছিল। নীতা আম্বানির সংগ্রহে ১০১ ক্যারোটের হীরার গহনা রয়েছে। সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ঘড়ি ও ব্যাগ।
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে কেন বাংলার তাঁতশিল্পীর তৈরি জামদানি বেছে নিলেন নীতা আম্বানি— এমন প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই নেটিজেনদের মাঝে জোর চর্চা। সেই সম্পর্কে নীতা আম্বানির তরফে কিছু জানা যায়নি।
তবে ধারণা করা হচ্ছে— গ্রীষ্মকালের জন্য জামদানি বেছে নিয়েছেন নীতা আম্বানি। এটি অত্যন্ত হালকা ও বাতাস চলাচলে যোগ্য। তাই এ শাড়িটি গ্রীষ্মে পরার জন্য আদর্শ। এই প্রচণ্ড গরমে আপনার কি শাড়ি পরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে অবশ্যই বেছে নিতে পারেন জামদানি, লিনেনের মতো শাড়ি, যা আপনাকে ভিড়ের মাঝে করে তুলবে একেবারে আলাদা। প্রচণ্ড গরমে ভারি কাজের, ভারি পাড়ের শাড়ি পরবেন না। সিল্ক কিংবা সিন্থেটিক শাড়িও না পরাই ভালো।

