Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

তীব্র গরমে পাকা আম খাওয়া কি নিরাপদ?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

তীব্র গরমে পাকা আম খাওয়া কি নিরাপদ?

তীব্র গরমে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। ফাইল ছবি

তীব্র গরমে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে বেশি পরিমাণে মিষ্টি ফল খেলে শরীর ভারি বা অস্বস্তিকর লাগতে পারে। সব মিলিয়ে আম খেলে শরীর গরম হয়ে যায়— এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত খাওয়া, হজম সমস্যা এবং গরমের প্রভাব মিলেই এ অনুভূতি তৈরি হয়।

বছরের দুই মাসই পাকা আম পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করেই আম খান সবাই। কিন্তু বেশি আম খেলে যে বড় বিপদ, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই অনেকেরই।  

বৈশাখের শুরু থেকেই বাজারে পাকা আম পাওয়া যায়। এর মধ্যেই বিভিন্ন জাতের আম বাজারে এসেছে। আর কয়েক দিন পরই ভালো মানের হিমসাগরও মিলবে। তখন লোভ সামলানো আরও কঠিন হয়ে যাবে। জৈষ্ঠ্য মাস আসতে না আসতেই পাকা ল্যাঙড়া, গোলাপখাস, আম্রপালিতে ভরে উঠেছে বাজার। ব্লাড সুগারের চিন্তা না করে অনেকেই আম খাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। এই গরমে শরীর আরও গরম করতে দিতে পারে, তা কি আপনি জানেন?

স্বাস্থ্যের কোনো তোয়াক্কা না করেই আম খেয়ে যাচ্ছেন। এমনকি সুগারের চিন্তাও করছেন না। মাত্রাতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে যদি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন কী করবেন?  

আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা ও ম্যাঞ্জিফেরিন থাকে। এগুলো মেটাবলিজমের সময়ে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। একে থার্মোজেনেসিস বলে। এর জেরে আম খাওয়ার পর শরীর কিছুটা ভারি মনে হয়, গরম অনুভব হয়। তবে সীমিত পরিমাণে আম খেলে এ ধরনের সমস্যা হয় না। 

আর রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য একটা আমও ক্ষতিকর। আমের গ্লাইসেমিক সূচক বেশি। তাই আম বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

শুধু তাই নয়; আমে শর্করার পাশাপাশি ক্যালোরিও বেশি থাকে। একটি মাঝারি সাইজের আমে ১২০-১৫০ ক্যালোরি থাকে। তাই মাত্রাতিরিক্ত আম খেলে ওজন বাড়বেই।

এ ছাড়া আমে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। এই ফাইবারের মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে অনেক সময়ে পেট খারাপ, গ্যাস, ডায়ারিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাকে অনেকে আম-আমাশয় বলে।

আবার সীমিত পরিমাণে আম খেলে ত্বকেরই লাভ। কিন্তু বেশি খেলে শরীরে সুগার লেভেল বাড়ে এবং ত্বকে তার প্রভাব দেখা দেয়। ব্রণ, ফুস্কুড়ি, র্যাশের মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি মাঝারি সাইজের আম খেতেই পারেন। খুব বেশি হলে দুটোও খাওয়া যায়। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে অর্ধেক আম খাওয়া উচিত। অনেক সময়ে একটা গোটা আম খেলেও সুগার লেভেল বেড়ে যায়।

বিশেষ করে সকালে আম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে বিপাকের অনেকটা সময় পাওয়া যায়। শরীরে আম থাকা চিনি ভাঙতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। শরীরচর্চার পর আম খেতে পারেন। এতে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাতে খাবার পর আম না খাওয়াই ভালো। এতে বিশ্রামের সময়ে শরীরকে বেশি কসরত হয় হজমের জন্য। এতে শরীরে ক্যালোরি জমে এবং ওজন বাড়ে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .