পানিশূন্যতার সঙ্গে কি বয়স বেশি লাগার সম্পর্ক আছে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গরমের সময় ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে অনেকেই এটিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া তরলের ঘাটতি পূরণ না হলে তা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এর ফলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা পেশিতে টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতা থাকলে ত্বকের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ত্বক বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাতে শুরু করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ও ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে ত্বক তার স্বাভাবিক কোমলতা, উজ্জ্বলতা এবং সতেজতা হারায়। ফলে সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পানিশূন্য ত্বক সাধারণত রুক্ষ, ক্লান্ত ও প্রাণহীন দেখায়, কারণ তখন ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
যদিও পর্যাপ্ত পানি ও আর্দ্রতা ফিরে পেলে ত্বকের অবস্থার কিছুটা উন্নতি সম্ভব, তবে দীর্ঘদিনের ডিহাইড্রেশন অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্যকর ও আর্দ্র ত্বক সাধারণত স্থিতিস্থাপক থাকে, যা ত্বককে আরও তরুণ ও প্রাণবন্ত দেখাতে সাহায্য করে।
পানিশূন্য ত্বকের কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ত্বকে টানটান অনুভূতি, উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলা, খসখসে ভাব, চোখ ও মুখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠা এবং ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা কমে যাওয়া। অনেক সময় মেকআপও ত্বকের রেখার মধ্যে জমে যেতে পারে।
ত্বক পানিশূন্য হলে এর বাইরের স্তরে জলীয় উপাদান কমে যায়। ফলে ত্বক পাতলা, শুষ্ক ও ভঙ্গুর দেখাতে শুরু করে। এতে ফাইন লাইন ও বলিরেখা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার ডিহাইড্রেশনের ফলে ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল হতে পারে এবং নিজেকে মেরামত করার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, দূষণ, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই অবস্থা ত্বকের অকাল বার্ধক্যকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম এবং দীর্ঘ সময় রোদে থাকার কারণে গ্রীষ্মকালে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, নিয়মিত ভ্রমণ করেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করেন বা পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া সংবেদনশীল ত্বক, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং অনুপযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহারের কারণেও ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারাতে পারে।
ত্বককে সুস্থ ও আর্দ্র রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি পানিসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি খাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মৃদু স্কিনকেয়ার পদ্ধতি অনুসরণ, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার করাও ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

