Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ঘন ঘন মাথাব্যথা কি ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:২৩ এএম

ঘন ঘন মাথাব্যথা কি ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ব্রেইন টিউমারের সতর্ক সংকেতগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।

Advertisement

প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয় বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগটির উপসর্গ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের পরিবারের নানা চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও সামনে আনা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রেইন টিউমারের সতর্ক সংকেতগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়ে।

ভারতের নয়ডার ফোর্টিস হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. জ্যোতি বালা শর্মার মতে, ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ টিউমারের আকার ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। মস্তিষ্ক শরীরের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বলে ছোট একটি টিউমারও কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ব্রেইন টিউমারের যেসব সতর্ক সংকেত জানা জরুরি

১. দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা

মস্তিষ্ক মানুষের শরীরের সবচেয়ে সুরক্ষিত অঙ্গগুলোর একটি। এটি শক্ত খুলি এবং তিন স্তরের সুরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ থাকে। ফলে খুলির ভেতরে টিউমারের মতো কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ হয়।

তবে সব মাথাব্যথাই ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ নয়। কিন্তু মাথাব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে, তীব্র হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয়, ভোরবেলায় বেশি অনুভূত হয়, ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে কিংবা বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. খিঁচুনি বা সিজার

মস্তিষ্ক দেহের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে। কোনো টিউমার মস্তিষ্কের টিস্যুকে প্রভাবিত করলে এসব সংকেতের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।

যে ব্যক্তির আগে কখনো খিঁচুনি হয়নি, তার হঠাৎ সিজার হওয়া ব্রেইন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। খিঁচুনির সময় শরীর কাঁপা, জ্ঞান হারানো, অস্বাভাবিক নড়াচড়া কিংবা কিছু সময়ের জন্য স্থির হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

৩. দুর্বলতা ও চলাফেরায় সমস্যা

মস্তিষ্ক শরীরের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের কোনো অংশ টিউমারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত, পা বা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া হাঁটতে সমস্যা, বারবার হোঁচট খাওয়া, ভারসাম্য রক্ষা করতে অসুবিধা কিংবা সমন্বয়হীনতার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। 

৪. কথা বলা ও যোগাযোগে পরিবর্তন

ব্রেইন টিউমার মস্তিষ্কের ভাষা ও কথাবার্তা নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে কথা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে, ভুল শব্দ ব্যবহার হতে পারে বা সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে অন্যের কথা বুঝতেও অসুবিধা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব পরিবর্তন অনেক সময় রোগীর চেয়ে পরিবারের সদস্যরাই আগে লক্ষ্য করেন।

৫. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা

দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তনও ব্রেইন টিউমারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। টিউমারের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ঝাপসা দেখা, দ্বৈত ছবি দেখা, পাশের দৃষ্টি কমে যাওয়া কিংবা এক বা দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।

অনেক সময় দূরত্ব নির্ধারণ বা চারপাশের বস্তু দেখতে সমস্যাও হয়। ধীরে ধীরে এসব উপসর্গ দেখা দেওয়ায় অনেকেই একে সাধারণ চোখের সমস্যা বলে মনে করেন।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেইন টিউমারের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক উপসর্গই অন্যান্য রোগের কারণেও দেখা দিতে পারে। তবে কোনো নতুন উপসর্গ দেখা দিলে, আগের তুলনায় উপসর্গ বাড়তে থাকলে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে ব্রেইন টিউমারের চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র- এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম