এক রাতের ঘুমেই বদলে যায় ‘মেমোরি কমান্ডার’: নতুন গবেষণা
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন কোনো তথ্য শেখার পর মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে তা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তর করে, সে বিষয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছেন চীনা গবেষকরা। গত ১৫ জুন চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল ‘নিউরণ’-এর অনলাইন সংস্করণে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
আর্মি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির শিনছিয়াও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি গবেষণা দলের পরিচালিত এই গবেষণায় সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, মাত্র এক রাতের ঘুমের পরই মস্তিষ্কের ‘স্মৃতি অধিনায়ক’ বা ‘মেমোরি কমান্ডার’ তার দায়িত্ব হস্তান্তর করা শুরু করে।
এ সময় নতুন শেখা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অঞ্চল থেকে ‘নিওকর্টেক্স’ অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়।
এই প্রক্রিয়াটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে গবেষক দলটি টানা ছয় দিন ধরে ১৪ জন মৃগীরোগীর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। রোগীরা যখন বারবার বিভিন্ন ছবি দেখছিলেন এবং তা মনে করার চেষ্টা করছিলেন, তখন গবেষকরা ‘স্টিরিওইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি’ প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের মস্তিষ্কের উচ্চ-কম্পাঙ্কের কার্যকারিতা রেকর্ড করেন।
গবেষকরা দেখতে পান, স্মৃতি গঠনের প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে একটি গতিশীল আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঘটে।
প্রথম দিন: নতুন কিছু শেখার প্রথম দিনে নতুন স্মৃতি জমানোর মূল কেন্দ্র ‘হিপোক্যাম্পাস’ একজন কমান্ডারের মতো ভূমিকা পালন করে। এটি ‘রিপলস’ নামের এক ধরণের সংক্ষিপ্ত ও সুসংগত বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘নিওকর্টেক্স’ অংশকে নির্দেশনা দেয়।
দ্বিতীয় দিন (ঘুমের পর): কিন্তু এক রাতের ঘুমের পর সেখানে একটি নীরব ‘গার্ড বদল’ বা দায়িত্ব হস্তান্তর ঘটে। দ্বিতীয় দিন থেকে নিওকর্টেক্সের ‘রিপল’ কার্যকারিতা হিপোক্যাম্পাসের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং স্মৃতি মনে করার ক্ষেত্রে এটিই মূল নেতৃত্ব দেয়। একই সঙ্গে এই দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরালো হয় এবং তথ্যের প্রবাহ হিপোক্যাম্পাস থেকে নিওকর্টেক্সের দিকে ধাবিত হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক ওয়াং লুকাং এই প্রক্রিয়াটিকে গাড়ি চালানো শেখার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘প্রথম দিনে একজন ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর যেমন শিক্ষার্থীর প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে গাইড করেন, হিপোক্যাম্পাসও ঠিক তা-ই করে। কিন্তু এক রাতের ভালো ঘুমের পর মস্তিষ্কের কর্টিকাল নেটওয়ার্ক নিজেই এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, যার ফলে অর্জিত দক্ষতাটি আরও স্বয়ংক্রিয় এবং স্থায়ী রূপ পায়।’
এই আবিষ্কারটি ইঙ্গিত করে যে, স্মৃতি স্থায়ী হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি আগের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত—অর্থাৎ শেখার ঠিক পরের রাতেই ঘটে যায়। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার আলঝেইমার্স, মস্তিষ্কের আঘাতজনিত সমস্যা এবং মৃগীরোগের কারণে সৃষ্ট স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল রোগগুলোর নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলি; নিউরণ।

