Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

প্রোটিন কফি কী? ওজন কমানো ও পেশি গঠনের ক্ষেত্রে এটি কতটা নিরাপদ?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

প্রোটিন কফি কী? ওজন কমানো ও পেশি গঠনের ক্ষেত্রে এটি কতটা নিরাপদ?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বর্তমান সময়ে ফিটনেসপ্রেমীদের মাঝে ‘প্রোটিন কফি’ বা সংক্ষেপে ‘প্রফি’ নামের একটি নতুন পানীয় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণত যারা একই সঙ্গে ওজন কমাতে এবং শরীরের পেশি বা মাসল বাড়াতে চান, তারা তাদের প্রতিদিনের কফির মগে প্রোটিন পাউডার মিশিয়ে এই পানীয় তৈরি করছেন। 

‘ফুডস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে, কফির সঙ্গে প্রোটিন পাউডার মেশালে তা শরীরের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা খুব সহজেই পূরণ করতে পারে। তবে কফি সরবরাহকারী ব্র্যান্ডগুলো এর ব্যাপক প্রচার করলেও, স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এটি কতটা নিরাপদ তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। 

অনেকেই একে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করলেও ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রিসার্চ ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স’-এর গবেষণা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

প্রোটিন কফি আসলে কী?

সহজ কথায়, আপনার নিয়মিত কফির সঙ্গে প্রায় ২০ গ্রাম প্রোটিন পাউডার (তা উদ্ভিজ্জ বা হুই প্রোটিন যেকোনোটি হতে পারে) মেশানোই হলো প্রোটিন কফি। 

যখন কফি পাউডারের সঙ্গে পানি, দুধ, চিনি এবং প্রোটিন পাউডার একসঙ্গে মেশানো হয়, তখন এটি একটি ঝটপট সকালের নাশতা কিংবা ওয়ার্কআউট-পরবর্তী পানীয়তে পরিণত হয়। কফির ক্যাফেইন এবং প্রোটিনের এই মিশ্রণ ক্যাফেইনের কার্যকারিতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে কফিতে প্রোটিনের পরিমাণ এবং প্রোটিন পাউডারের মান সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন না করলে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। 

কফিতে ২০ গ্রাম প্রোটিন মেশালে শরীরে কী ঘটে?

শরীরে একবারে ২০ গ্রাম প্রোটিনের প্রবেশ ঘটলে তা ক্ষুধা, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং শক্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গবেষণার আলোকে এর প্রধান ৪টি প্রভাব নিচে দেওয়া হলো:

ক্ষুধা কমায় ও পেট ভরা রাখে: অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে ‘তৃপ্তি’ বা পেট ভরা থাকার হরমোন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘন ঘন খাওয়ার ইচ্ছা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পেশি গঠনে ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে: ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ২০ গ্রাম প্রোটিন শরীরের দৈনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ব্যায়ামের পর পেশির ক্লান্তি দূর করতে ও নতুন পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। 

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে: শুধু কফি খেলে হুট করে রক্তে শর্করার যে স্পাইক বা উত্থান ঘটে, প্রোটিন তা ধীর করে দেয়। ফলে শরীর দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল থাকে। 

দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায়: ক্যাফেইন আমাদের তাৎক্ষণিক সতেজ করলেও, প্রোটিনের উপস্থিতি সেই শক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করে। এটি দুপুরের কর্মব্যস্ততার মাঝে হুট করে চলে আসা ক্লান্তি বা অবসাদ দূর করতে দারুণ কার্যকর। 

কফি কি প্রোটিন শোষণে বাধা দেয়?

কফি প্রোটিনের শোষণ ক্ষমতাকে কিছুটা প্রভাবিত করলেও তা শরীরের প্রোটিন ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে খুব একটা ব্যাহত করে না। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে সংবেদনশীল মানুষের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

প্রোটিন কফির কিছু নেতিবাচক দিক 

সবার শরীর ক্যাফেইন এবং প্রোটিনের এই মিশ্রণকে একইভাবে গ্রহণ করতে পারে না। এর কিছু উল্লেখযোগ্য অপকারিতাও রয়েছে। 

১. হজমের সমস্যা: প্রোটিন পাউডারের কারণে অনেকের পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

২. অতিরিক্ত ক্যালোরি: কফিতে ২০ গ্রাম প্রোটিন পাউডার যোগ করার ফলে পানীয়টির ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ১২০ ক্যালোরি বেড়ে যায়। সকালের পানীয়তে এই বাড়তি ক্যালোরির হিসাব না রাখলে ওজন কমানোর লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

৩. অসম্পূর্ণ খাবার: প্রোটিন কফি কখনোই একটি সুষম সকালের নাশতার বিকল্প নয়। কারণ একটি আদর্শ নাশতায় যে পরিমাণ ফাইবার (আঁশ) ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, এই কফিতে তা অনুপস্থিত। 

প্রোটিন কফি তৈরির সঠিক নিয়ম

যেহেতু এই ট্রেন্ডটি এখনো নতুন এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে, তাই এটি তৈরির সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

রক্তে শর্করার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবসময় চিনিবিহীন প্রোটিন পাউডার ব্যবহার করুন।

কফিতে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সিরাপ মেশানো থেকে বিরত থাকুন।

যদি এটিকে সকালের নাশতার বিকল্প হিসেবে বেছে নেন, তবে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে কফির সঙ্গে কিছু ফাইবারযুক্ত খাবার (যেমন: ফল বা বাদাম) গ্রহণ করুন। 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রোটিন কফি একটি সম্পূরক (সাপ্লিমেন্ট) হিসেবে ভালো কাজ করলেও এটি কোনোভাবেই পুষ্টিকর মূল খাবারের বিকল্প নয়। তাই নিয়মিত ডায়েটে এটি অন্তর্ভুক্ত করার আগে একজন পুষ্টিবিদ বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। 

সূত্র: এনডিটিভি 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম