গ্রিন টি নাকি হোয়াইট টি— রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোনটি বেশি উপকারী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
এআই দিয়ে তৈরি ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, ফ্লু, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ সময় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অনেকেই ভরসা করেন বিভিন্ন ধরনের চায়ের ওপর। তবে প্রশ্ন হলো— গ্রিন টি ও হোয়াইট টির মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি চা-ই স্বাস্থ্যকর এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। তবে কোনটি বেশি উপকারী হবে, তা নির্ভর করে এর পুষ্টিগুণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর।
একই গাছ, ভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ
গ্রিন টি ও হোয়াইট টি— দুটিই ক্যামেলিয়া সিনেনসিস (Camellia sinensis) গাছের পাতা থেকে তৈরি হয়। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের পার্থক্যের কারণে এদের স্বাদ, সুগন্ধ ও পুষ্টিগুণে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়।
কেন জনপ্রিয় গ্রিন টি?
গ্রিন টিতে রয়েছে এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বজায় রাখা এবং হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি পান করলেই ওজন কমে বা রোগ প্রতিরোধ হয়— এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
হোয়াইট টি কেন বিশেষ?
হোয়াইট টি তৈরি হয় গাছের কুঁড়ি ও একেবারে কচি পাতা থেকে। এটি সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত চায়ের মধ্যে একটি। কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তুলনামূলক বেশি সংরক্ষিত থাকতে পারে। এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, হোয়াইট টি শরীরের কোষ সুরক্ষায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে উপকারী হতে পারে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোনটি ভালো?
গ্রিন টি ও হোয়াইট টি— উভয়টিই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো উৎস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কিছু গবেষণায় হোয়াইট টিতে নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গ্রিন টির চেয়ে নিশ্চিতভাবে বেশি কার্যকর— এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আপনি যেটি নিয়মিত ও চিনি ছাড়া পান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটিই বেছে নিতে পারেন। তবে শুধু চায়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় টিকাসহ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
