Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে ব্ল্যাক কফি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে ব্ল্যাক কফি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ বাড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত থাকলেও তা বুঝতে পারেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা অন্যান্য কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় এটি ধরা পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চিনি ও দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং লিভারের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় লিভারে ফাইব্রোসিস বা দাগ (স্কারিং) হওয়ার ঝুঁকি কমারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ব্ল্যাক কফি ফ্যাটি লিভারের কোনো চিকিৎসা নয়। শুধু কফি পান করলেই এ রোগ সেরে যাবে— এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি কেবল স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি সহায়ক অংশ হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কেন বাড়ে?

লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করলে ফ্যাটি লিভার তৈরি হয়। এর প্রধান ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • স্থূলতা
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
  • চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এবং পরবর্তী সময়ে সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে কফি পান করলে তা যেন চিনি, ক্রিম বা উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত ফ্লেভার সিরাপ ছাড়া হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এসব উপাদান কফির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, গর্ভাবস্থা বা ক্যাফেইনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে কোনো একক খাবার বা পানীয় নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ব্ল্যাক কফি সেই জীবনযাপনের একটি সম্ভাব্য সহায়ক উপাদান হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম