ওষুধ না খেয়েও জ্বর-সর্দি থেকে সেরে ওঠা সম্ভব?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে ছোট-বড় অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সংক্রমণের বেশির ভাগই ভাইরাসের কারণে হয় এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সেরে যায়। তাই অযথা অ্যান্টিবায়োটিক বা কফ সিরাপ সেবনের পরিবর্তে সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বর হলে প্রয়োজনে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি মাথাব্যথা, হাত-পা ও শরীরের ব্যথাও কিছুটা উপশম হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়, কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এসব ওষুধ কার্যকর নয়।
সর্দির কারণে নাক বন্ধ থাকলে কুসুম গরম পানির ভাপ নেওয়া উপকারী হতে পারে। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়, মাথাব্যথা কমে এবং বুকে জমে থাকা কফ বের হতে সাহায্য করে। কাশি বা গলা খুশখুশে ভাব কমাতে কুসুম গরম পানি বা লবণ মিশ্রিত গরম পানিতে কুলকুচি করা যেতে পারে।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গলার লজেন্সও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া আদা, গোলমরিচ বা হলুদ দিয়ে তৈরি গরম পানীয় প্রদাহ কমাতে এবং গলার অস্বস্তি দূর করতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
জ্বরের সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, স্যুপ, ডাবের পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করা জরুরি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা এবং ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ফলমূল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকতে হবে। জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা উচ্চ তাপমাত্রা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিলে অধিকাংশ ভাইরাসজনিত জ্বর-সর্দি কোনো জটিলতা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়।
