Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

অন্যকে দেখলে নিজেরও হাই ওঠে কেন, জেনে নিন রহস্য

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

অন্যকে দেখলে নিজেরও হাই ওঠে কেন, জেনে নিন রহস্য

হাই তোলা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। ঘুম পেলে কিংবা আলসেমি লাগলে হাই তুলে খানিক স্বস্তি পাওয়া যায়। আবার অন্যকে হাই তুলতে দেখলে নিজেরও ইচ্ছা জাগে। এবং তা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই হাই তোলা হয়। কেন এমন হয়, সে নিয়েই কৌতূহল বেশি জাগে?

অফিসে মিটিং চলছে। সামনে বসে সহকর্মী বড়সড় মুখ খুলে হাই তুললেন। সেটি দেখামাত্র কেমন যেন শিহরণ জাগে। আপনারও দুই চোখ ছোট হয়ে এলো— মুখটা আপনা থেকেই খুলে গেল এবং বুকভরে বাতাস টেনে আপনিও তুললেন লম্বা এক হাই! আপনি না চাইলেও হাই উঠবে অবধারিতভাবেই। 

শুধু কি দেখা, ‘হাই তোলা’ কথাটি উচ্চারণ করলেও হাই উঠবেই উঠবে। দুই হাত হয়তো আড়মোড়া ভাঙার ভঙ্গিতে চলে যাবে আপনা থেকেই। সে আপনি চান কিংবা না চান। শরীর ক্লান্ত থাকুক কিংবা না থাকুক। হাই তো কোনো ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া নয়। অসুখবিসুখও নয়। তা-ও কেন এত ছোঁয়াচে? কেন একজনকে হাই তুলতে দেখলে অন্যজনেরও হাই ওঠে?

হাই তোলার আরও একটি কারণ হলো— ‘মিরর নিউরন’। মগজে এমন কিছু স্নায়ুকোষ আছে, যা সবসময়েই অনুকরণ করে চলে। অন্যে যে কাজ করছেন, যেভাবে কথা বলছেন বা হাঁটাচলা করছেন, সে রকমই অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এদেরই বলে ‘মিরর নিউরন’। সহানুভূতি বা সমবেদনা জানানো, অন্যের আচরণ ও উদ্দেশ্য বোঝা, অনুকরণ করা বা দেখে শেখার চেষ্টা— এসব কাজের সঙ্গে এরা জড়িত। হাই তোলা নকল করতেও এরা পারদর্শী।

সেই ছোটবেলা থেকে হয়তো শুনে আসছেন— রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে হাই ওঠে। মস্তিষ্কের পীড়াপীড়িতে ফুসফুস বাধ্য হয়ে বেশি বাতাস টানে, আর তাতেই হাই ওঠে। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, রক্তে অক্সিজেন কিংবা কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণের সঙ্গে হাই তোলার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এটি মগজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রক্রিয়া। অর্থাৎ হাই হলো মস্তিষ্কের ‘কুলিং প্রসেস’। দিনভরের কাজ, হাজারো চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ক্লান্ত এবং তেতেপুড়ে থাকা মস্তিষ্কও একমুঠো ঠান্ডা বাতাস খোঁজে। হাই তুলে তা পূরণ করে দেয়। মুখ বড়সড় হাঁ করে যখন হাই তোলেন, তখন বাইরের তাজা বাতাস সোজা মুখের ভেতরের কোষ হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। একই সঙ্গে চোখ ও গালের পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনকে দ্রুততর করে। তাই হাই হলো মগজের নিজস্ব শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। এর কাজই হলো মাথা ঠান্ডা রাখা।

এখন প্রশ্নে আসে— হাই তোলা আদৌ কি ছোঁয়াচে রোগ? হাই হচ্ছে মগজের ‘কুলিং ফ্যান’, সে তো বোঝা গেল। হাই তুলে মাথা ঠান্ডা হয়, তা-ও মানা গেল। কিন্তু অন্যজনে যখন হাই তুলে মগজকে তরতাজা করছেন, তখন আপনারও কেন হাই তোলার প্রয়োজন হলো? হাই দেখলেই যে হাই তোলার ইচ্ছা জাগে, তা-ও কিন্তু মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কারসাজিতেই হয়।

গবেষকরা বলছেন, হাই যে ছোঁয়াচে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ছোঁয়াচে 'রোগ' নয়। মনোবিজ্ঞানে একে বলে ‘ক্যামেলিয়ন এফেক্ট’। মানুষের এমন একটি অবচেতন বা অচেতন স্বভাব, যার মাধ্যমে মানুষ অজান্তেই তার আশপাশের মানুষের শারীরিক ভঙ্গি, মুখের ভাব, অঙ্গভঙ্গি ও কথা বলার ধরন বা সুর অনুকরণ করে থাকে। কেবল মানুষ নয়, অন্য প্রাণীদের মধ্যেও তা দেখা যায়। কেউ আপনার সামনে হাত গুটিয়ে বসলে কিছুক্ষণ পর খেয়াল করবেন আপনিও হাত গুটিয়ে বসেছেন। ঠিক একইভাবে, অন্য কাউকে মুখ হাঁ করে হাই তুলতে দেখলে, অজান্তেই কোনো রকম ইচ্ছা বা অনুভূতি ছাড়াই মস্তিষ্ক তা অনুকরণ করার সংকেত দেয়।

অন্যকে দেখে হাই তোলার ইচ্ছা কেন জাগে, তার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথা বলেছেন গবেষকরা। সেটি হলো ‘এমপ্যাথি’। অন্যের দুঃখ, কষ্ট কিংবা অনুভূতি নিজের মতো করে অনুভব করার বা গভীর ভাবে বোঝার মানসিক ক্ষমতা। অন্যকে হাই তুলতে দেখলেও মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো একসঙ্গে সক্রিয় হয়। তাই হাই তোলা দেখলে নিজেরও হাই ওঠে। এমন ক্ষমতা প্রাণীদের মধ্যেও রয়েছে। মালিককে হাই তুলতে দেখলে পোষ্য কুকুর বা বিড়ালও তাতে সাড়া দেয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। 

গবেষকরা বলছেন, এমন মানসিক অবস্থা অটিজম কিংবা স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের থাকে না। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সামাজিক সহমর্মিতার ঘাটতি দেখা যায়। তাই দেখা গেছে, হাই তুলতে দেখলে তারা সাড়া দেয় না। তাই হাই তোলা কেবল ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, আবেগ-অনুভূতির সঙ্গেও এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম