Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

‘আইস বাথ’ কি ক্যানসার উপশম করতে পারে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

‘আইস বাথ’ কি ক্যানসার উপশম করতে পারে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সম্প্রতি ভারতীয় অভিনেত্রী হিনা খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে বরফভর্তি ঠান্ডা পানিতে ডুব দিয়ে ‘আইস বাথ’ নিতে দেখা যায়। ২০২৪ সালের জুনে হিনা খান জানান যে তিনি তৃতীয় ধাপের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। তার এই ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই ‘আইস বাথ’ বা কোল্ড-ওয়াটার থেরাপি আসলেই কতটা কার্যকরী? 

পোস্টে হিনা খান উল্লেখ করেছেন যে, চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই তিনি এই থেরাপি গ্রহণ করছেন। অ্যাথলেট ও ফিটনেসপ্রেমীদের মধ্যে পেশির ক্লান্তি দূর করতে এটি জনপ্রিয় হলেও, ক্যানসারের মতো গুরুতর ব্যাধির ক্ষেত্রে এর কোনো সুনির্দিষ্ট উপকারিতা আছে কিনা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

আইস বাথ থেরাপি আসলে কী?

আইস বাথ বা কোল্ড-ওয়াটার ইমার্সন হলো সাধারণত ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে কয়েক মিনিট ডুব দিয়ে বসে থাকা। তীব্র শরীরচর্চা বা অনুশীলনের পর পেশির ব্যথা কমাতে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে খেলোয়াড়রা এটি ব্যবহার করেন।

প্রচণ্ড ঠান্ডায় শরীরের রক্তনালীগুলো সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়ে যায়, যা প্রদাহ ও ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। পরবর্তীতে শরীর আবার গরম হলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং পেশির ক্লান্তি দূর হয়। ফলে এটি মূলত ক্রীড়া ও ফিটনেসের সঙ্গেই সম্পর্কিত, কোনো রোগের চিকিৎসার সঙ্গে নয়। 

আইস বাথ কি ক্যানসার নিরাময় করতে পারে? 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এর সহজ উত্তর হলো—‘না’। ভারতের ফরিদাবাদের ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট অংকোলজিস্ট ডা. সিদ্ধার্থ শঙ্কর সুদ জানান, কোল্ড-ওয়াটার থেরাপি বা আইস বাথ ক্যানসার নিরাময়, প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। 

তিনি বলেন, ‘ক্যানসার একটি জটিল রোগ, যা জেনেটিক ও আণবিক পরিবর্তনের কারণে ঘটে। ঠান্ডা পরিবেশ সাময়িক কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও মানবদেহে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা বা টিউমারের বৃদ্ধি থামানোর কোনো ক্ষমতা এর নেই।’ ল্যাবরেটরির প্রাথমিক গবেষণায় তাপমাত্রার পরিবর্তন নিয়ে পরীক্ষা করা হলেও মানবদেহে চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে এটি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। 

ক্যানসার রোগীদের জন্য কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ? 

ক্যানসারের চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইস বাথ নেওয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া, কেমোথেরাপির অন্যতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’ (হাত-পা অবশ হওয়া, ঝিঁঝিঁ ধরা বা ব্যথা করা) আইস বাথের ঠান্ডায় আরও বেড়ে যেতে পারে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা রক্তসংবহনজনিত সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এটি চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। 

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপরই ক্যানসার রোগীদের ভরসা রাখা উচিত। স্বীকৃত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

অস্ত্রোপচার (সার্জারি): ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ

কেমোথেরাপি: দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা

রেডিওথেরাপি: বিকিরণের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ মেরে ফেলা

ইমিউনোথেরাপি: শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা

টার্গেটেড থেরাপি: ক্যানসার কোষের সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা

হরমোন থেরাপি: হরমোননির্ভর ক্যানসারের বৃদ্ধি রোধ করা

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আইস বাথ কেবল শারীরিক সতেজতা বা শরীরচর্চা-পরবর্তী রিকভারির একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো ধরনের বিকল্প বা থেরাপি চেষ্টা করার আগে রোগীদের অবশ্যই তাদের মূল অংকোলজি টিমের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত। 

সূত্র: এনডিটিভি লাইফলাইন 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম