রাতে কী খেলে আয়ু বাড়বে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেশি দিন বেঁচে থাকাই নয়, সুস্থ থাকাও জরুরি। আর শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের খাবারে।
রাতে বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-মশলা বা ভাজাভুজি খেলে অনেক সময় পেট ভার, অম্বল, গ্যাস কিংবা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তাই রাতের খাবার হওয়া উচিত, পরিমিত এবং পুষ্টিকর।
খাবারের তালিকায় এমন কিছু জিনিস রাখা যেতে পারে, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।
সবুজ শাকসবজি রাখুন
রাতের খাবারে সবুজ শাকসবজি রাখা ভালো। পালং শাক, লাউ, ঝিঙে, পটল, ঢেঁড়স, বিনস, ফুলকপি বা বাঁধাকপির মতো সবজি খেতে পারেন। সবজিতে থাকে নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার। তবে সবজি রান্নার সময় বেশি তেল, মাখন বা মশলা ব্যবহার না করাই ভালো। হালকা রান্না করা সবজি রাতের জন্য তুলনামূলকভাবে ভাল বিকল্প
ডাল বা অন্য প্রোটিন রাখুন
রাতে শুধু রুটি বা ভাত খেলে খাবার অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। তাই খাবারে ডাল রাখতে পারেন। ডালে প্রোটিন ও ফাইবার থাকে, যা পেট কিছুটা সময় ভরা রাখতে সাহায্য করে। ডাল ছাড়াও মাছ, ডিম, পনির বা সয়াবিনের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পরিমাণ বুঝে খাওয়া যেতে পারে। তবে কোন খাবার কতটা খাবেন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে।
রুটি হতে পারে বিকল্প
অনেকে রাতে ভাতের বদলে রুটি খেতে পছন্দ করেন। আটার রুটি, সঙ্গে সবজি ও ডাল-এমন একটি সাধারণ খাবার রাতের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে রুটি খেলেই যে ওজন কমবে বা ভাত খেলেই ওজন বাড়বে, এমন নয়। আসল বিষয় হল মোট খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টির ভারসাম্য।
খাবারের সঙ্গে স্যালাদ
শসা, টমেটো, গাজর, বিটের মতো সবজি দিয়ে সহজেই স্যালাদ তৈরি করা যায়। এতে খাবারে ফাইবার যোগ হয়। তবে কাঁচা সবজি খেলে যাঁদের গ্যাস বা হজমের সমস্যা হয়, তাঁরা নিজের শরীরের কথা মাথায় রেখে খাবেন।
বেশি তেল-মশলা ও ভাজাভুজি এড়ানঃ রাতে বিরিয়ানি, পিৎজা, বার্গার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা খুব ঝাল-মশলাদার খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ভাল নয়। এই ধরনের খাবার অনেকের ক্ষেত্রে অম্বল, গ্যাস বা পেট ভার হওয়ার সমস্যা বাড়াতে পারে। মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ও নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে রাতে বেশি মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।
খাবারের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। খুব রাতে খাওয়া বা খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস এড়ানো ভাল। রাতের খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ সময় রেখে ঘুমোতে যাওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু ডিনারে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলেই আয়ু বেড়ে যাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান-অ্যালকোহলের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি।
