Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

ক্লান্তি দূর করে দিনভর কাজে উদ্যম পেতে যা করবেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

ক্লান্তি দূর করে দিনভর কাজে উদ্যম পেতে যা করবেন

প্রতিদিনের একঘেয়ে রুটিন অনেক সময় আমাদের জীবনে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি নিয়ে আসে। এই ক্লান্তি দূর করতে রুটিনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনা ভীষণ জরুরি। কারণ রুটিনমাফিক নিয়ম পরিবর্তন দারুণ কার্যকর হতে পারে। এমন কিছু সহজ পরিবর্তনের তালিকা অনুযায়ী আপনার জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। তবেই আপনার জীবনে নতুন শক্তি জোগাবে।

প্রতিদিনের রুটিনে পরিবর্তন আনতে হবে। আপনি সন্ধ্য়াবেলায় বাড়ি ফেরার পর খুব বেশি ক্লান্ত অনুভব করছেন। কারণ নিজেও বুঝতে পারছেন না। ঝট করে আগে যেভাবে সব কাজ শেষ করে ফেলতে পারতেন, এখন সেখানে অলসতা কাজ করছে। শারীরিকভাবে ফিট থেকেও সারা দিন ক্লান্তি ও অলসতার মুখোমুখি হলে প্রতিদিনের রুটিনে সাধারণ কিছু পরিবর্তন আনুন। 

সঠিক জীবনযাত্রা ও নিয়মতান্ত্রিক অভ্যাস আমাদের শরীরের শক্তির মাত্রা প্রাকৃতিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। দিনের রুটিনে যেভাবে পরিবর্তন আনলে আপনার হারিয়ে যাওয়া উদ্যম ও সতেজতা ফিরে পাবেন, তা খানিকটা জেনে নিন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ক্লান্তি দূর করতে যা আমাদের করণীয়—

সকালের শুরুতেই চোখ খুলে প্রথমে এক গ্লাস হালকা গরম কিংবা কুসুম গরম পানি পান করুন। রাতে ঘুমানোর ফলে আপনার শরীরে যে মৃদু পানিশূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে দেবে। এ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সক্রিয় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এই এক গ্লাস পানি। এ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে ১৫-২০ মিনিট সূর্যের আলো গায়ে লাগান। সকালের রোদ আপনার শরীরের মেলাটোনিন হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে ঘুম-জাগরণের চক্র বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখে।

এরপর ১০-২০ মিনিটের ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা দ্রুত হাঁটুন। এতে আপনার রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেবে। এটি আপনার শরীর দ্রুত সতেজ ও কর্মক্ষম করে তুলতে সহায়তা করে থাকে। আর কোনো অবস্থাতেই সকালের ভারি খাবার খাওয়া কিংবা ব্রেকফাস্ট করা বাদ দেবেন না। নাশতায় ওটস, ডিম, লাল আটার রুটি বা ফলমূলের মতো কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন রাখুন।

ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিন সকালে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে ৩-৪ ঘণ্টা পরপর অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খান। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার হুট করে কমে যায় না এবং ক্লান্তি আসে না। এ ছাড়া ঘন ঘন চিনিযুক্ত চা-কফি বা এনার্জি ড্রিংকস পান করা বন্ধ করে দিন। এসব সাময়িক শক্তি দিলেও কিছুক্ষণ পর শরীর আরও বেশি ক্লান্ত করে ফেলে। দুপুরের পর চা কিংবা কফি এড়িয়ে চলাই ভালো।

এ ছাড়া একটানা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ বাড়ে। প্রতি ৫০ থেকে ৬০ মিনিট কাজ করার পর ৫ মিনিটের একটি ছোট বিরতি নিন। একটু হেঁটে আসুন বা হাত-পা স্ট্রেচ করুন।

প্রতিদিন রাতে ঠিক একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একই সময়ে ওঠার অভ্যাস ভীষণ জরুরি। এমনকি ছুটির দিনেও এ রুটিন ভাঙবেন না। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম দরকার। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন বন্ধ করে দিন। ডিজিটাল ডিভাইসের নীল আলো বা ব্লু-লাইট রাতের স্বাভাবিক ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়। আর ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। রাতে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারি খাবার খেলে হজমের সমস্যা হয় এবং ঘুমের মান খারাপ হয়। যদি জীবনধারা পরিবর্তন করার পরও টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনার তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা বজায় থাকে, তবে শরীরে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে কিনা অথবা থাইরয়েডের সমস্যা আছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আপনি অফিসে ডেস্কে কিংবা কাজের জায়গায় পানির বোতল রাখুন এবং অল্প অল্প করে চুমুক দিন। আপনার শরীরে ২ শতাংশ পানির ঘাটতি হলেও মারাত্মক ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ভেতরের শক্তি দ্রুত শুষে নেয়। ক্লান্তি কাটাতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট বুক ভরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অথবা মেডিটেশন করুন। তবে আপনার ক্লান্তি দূর করা সম্ভব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম