নারীদের হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে যে ৬ খাদ্যাভ্যাস
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীর সামগ্রিক সুস্থতায় হরমোনের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীর ও মনের নানা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। আর হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জীবনযাপনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কী খাচ্ছি, তা হজম, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ইনসুলিনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরোক্ষভাবে হরমোনের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।
গাট হেলথ বিশেষজ্ঞ ও হেলদি স্টেডি গো-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ডায়েটিশিয়ান কাজল ওয়াটামওয়ার কয়েকটি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যা নারীদের হরমোনের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, দীর্ঘদিন ব্রণ, অনিয়মিত মাসিক, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া বা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ক্লান্তি থাকলে খাদ্যাভ্যাস হরমোনের ওপর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পিসিওএস বা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের জন্য সুষম পুষ্টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
১. পরিশোধিত সিড অয়েল
প্রক্রিয়াজাত খাবার, রেস্তোরাঁর খাবার ও টেকঅ্যাওয়ে খাবারে সয়াবিন, সূর্যমুখী ও ক্যানোলা তেলের মতো পরিশোধিত সিড অয়েল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ওমেগা-৬ ফ্যাট বেশি এবং ওমেগা-৩
সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস প্রদাহ ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই এসব তেল পুরোপুরি বাদ না দিয়ে আখরোট, তিসি, চিয়া বীজ ও চর্বিযুক্ত মাছের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
২. অতিরিক্ত চিনি
মিষ্টি বা ডেজার্ট কম খেলেও কেচাপ, সিরিয়াল, প্যাকেটজাত গ্র্যানোলা, ফ্লেভারযুক্ত দইসহ অনেক খাবারে লুকানো চিনি থাকতে পারে। ঘন ঘন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে ইনসুলিনের মাত্রাও বাড়তে পারে। এর ফলে কিছু নারীর শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে ব্রণ, অনিয়মিত মাসিক বা মুখে অতিরিক্ত লোমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের লেবেল দেখে চিনি যাচাই করা এবং সম্ভব হলে চিনি ছাড়া দই বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. স্কিমড ও প্রচলিত দুগ্ধজাত খাবার
কিছু গবেষণায় দুগ্ধজাত খাবার, বিশেষ করে স্কিমড দুধের সঙ্গে উচ্চতর আইজিএফ-১ মাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। হরমোনের প্রতি সংবেদনশীল কিছু নারীর ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার ব্রণের সমস্যা বাড়াতে পারে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পুরোপুরি দুগ্ধজাত খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়।
৪. কৃত্রিম মিষ্টিকারক
চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্টিকারককে অনেকে স্বাস্থ্যকর মনে করেন। তবে কিছু কৃত্রিম মিষ্টিকারক অন্ত্রের জীবাণুর গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫. সয়া পণ্য
টোফু, টেম্পে ও এডামামের মতো সম্পূর্ণ সয়া খাবার সাধারণত বেশির ভাগ নারীর জন্য নিরাপদ। তবে কিছু প্রোটিন বার ও শেকে ব্যবহৃত অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত সয়া প্রোটিন আইসোলেট পরিমিত খাওয়া ভালো। থাইরয়েডের সমস্যা, বিশেষ করে হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস থাকলে সয়া গ্রহণ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
৬. প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার
শেষ সতর্কতাটি কোনো খাবার নয়, বরং খাবার রাখার পাত্র নিয়ে। প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা, একবার ব্যবহারের পানির বোতল বারবার ব্যবহার করা কিংবা গরম টেকঅ্যাওয়ে খাবার প্লাস্টিকের প্যাকেটে খাওয়ার ফলে বিপিএ ও ফথ্যালেটের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শ বাড়তে পারে। এসব রাসায়নিকের কিছু হরমোনের মতো আচরণ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক হরমোন সংকেতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ডায়েটিশিয়ানের মতে, কোনো একটি খাবারই হরমোনের সমস্যার একমাত্র কারণ নয়। খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ঘুমের মান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম বৃদ্ধি বা অকারণে ওজনের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে নিজে থেকে খাদ্য বাদ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
