Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

ইসবগুল খাওয়ার সঠিক উপায়, কোন সমস্যায় কীভাবে খাবেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

ইসবগুল খাওয়ার সঠিক উপায়, কোন সমস্যায় কীভাবে খাবেন

ইসবগুল আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক ফাইবার। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যায় এটি বেশ পরিচিত। সাধারণত পানিতে মিশিয়ে ইসবগুল খাওয়া হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন সমস্যার জন্য এটি খাওয়া হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এর সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান মেশানো যেতে পারে। অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত মলত্যাগ কিংবা অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও ইসবগুল সহায়ক হতে পারে।

ইসবগুল আসলে কী?

ইসবগুল, যা সাইলিয়াম বা ইসপাগুলা নামেও পরিচিত, এক ধরনের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ। এটি Plantago গোত্রের উদ্ভিদের বীজ থেকে পাওয়া যায়। বীজের আবরণ থেকে তৈরি মিউসিলেজ পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। এ কারণেই ইসবগুল অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে এবং মলের গঠন পরিবর্তনে সহায়তা করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও কিছু ক্ষেত্রে হালকা ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে খাদ্যআঁশ হিসেবে সাইলিয়াম ব্যবহার করা হয়। এটি খাবার ঘন করার উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইসবগুল উৎপাদনে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

১. অ্যাসিডিটির জন্য ঠান্ডা দুধের সঙ্গে

অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে ঠান্ডা দুধের সঙ্গে ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে। এই মিশ্রণ পাকস্থলীতে গিয়ে একটি আবরণ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে, যা অ্যাসিডজনিত অস্বস্তি কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই সবসময় শুধু পানির সঙ্গেই ইসবগুল খেতে হবে—এমন নয়।

২. মলত্যাগের সমস্যা হলে দইয়ের সঙ্গে

মলত্যাগ অনিয়মিত হলে দইয়ের সঙ্গে ইসবগুল একটি উপকারী সংমিশ্রণ হতে পারে। ইসবগুল পানি শোষণ করে মলের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে, আর দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগ সহজ ও নিয়মিত হতে পারে।

৩. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে লেবু পানির সঙ্গে

সন্ধ্যা বা রাতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা থাকলে লেবু পানির সঙ্গে ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে। খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। এতে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমতে পারে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্যে পানির সঙ্গে

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইসবগুল পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ ও নরমভাব বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হতে পারে। অনেকে হালকা গরম পানির সঙ্গে এটি খেয়ে থাকেন।

তবে ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। অতিরিক্ত পরিমাণে বা কম পানি দিয়ে খেলে উলটো পেটের অস্বস্তি বা আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত বা তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম