পুরুষের ভুঁড়ি কি ক্যানসারের গোপন সংকেত?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
পুরুষের ভূঁড়ি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুরুষালি সৌন্দর্যের অন্যতম বাঁধা এবং শরীরচর্চার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ি, তা হলো—অবাঞ্ছিত ভুঁড়ি। কেবল চেহারার আকর্ষণ নষ্ট করাই নয়, কাজ করার স্বাভাবিক গতি এবং পরিশ্রমের ক্ষমতাও কমিয়ে দেয় এই অতিরিক্ত মেদ। সাধারণত দেখা যায়, গায়ে-গতরে বিশেষ মেদ না থাকলেও ঠিক পেট ও কোমর জুড়ে জমতে থাকে চর্বির থলথলে স্তর। পুরুষদের ক্ষেত্রে চল্লিশের কোঠা পার হতেই এই দৃশ্য নিত্যদিনের পরিচিত চিত্র। কেউ কেউ স্থূলতার কারণে ভুঁড়িতে ভোগেন, আবার কারও সামগ্রিক স্থূলতা না থাকা সত্ত্বেও পেটে দিব্যি জমে ওঠে মেদ। এই আপাত-নিরীহ মনে হওয়া ভুঁড়িটিই যে ভেতরে ভেতরে ডেকে আনছে প্রাণঘাতী নানা ব্যাধি, সে খবর কি রাখছেন? সাম্প্রতিক বিশ্বমানের গবেষণা কিন্তু দিচ্ছে তেমনই মারাত্মক কিছু সতর্কবার্তা।
গবেষণায় চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য: বিএমআই যাই হোক, ঝুঁকিতে ভুঁড়ি
সুইডেনের ‘ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট’-এর জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই যেমনই থাকুক না কেন— ভুঁড়ি আড়েবহরে বাড়তে থাকা মানেই বিপদ একদম দরজায় কড়া নাড়ছে! এটি কেবল পুরুষদের নিয়ে করা একটি ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা। গবেষকরা জানান, নারীদের ক্ষেত্রে সামগ্রিক স্থূলতা বিভিন্ন রোগের জন্ম দিলেও পুরুষদের পেটের মেদ বা ভুঁড়ি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই বিশেষ মেদের স্তরেই শুরু হতে পারে ক্যানসার কোষের অনিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন।
ঝুঁকির পরিমাণ: প্রায় ৩ লক্ষ ৩৯ হাজারের বেশি পুরুষকে পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যাদের কোমরের মাপ ৪০ ইঞ্চির বেশি এবং পেটে চর্বির আধিক্য রয়েছে, তাদের ২৫ শতাংশেরই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিএমআই-এর ভুল ধারণা: বিএমআই (উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত) বেশি থাকলেই যে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে, বিষয়টি তেমন নয়। উদাহরণস্বরূপ, ৬ ফুট লম্বা এক ব্যক্তির উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ও বিএমআই বেশি হতে পারে। কিন্তু ৫ ফুট উচ্চতার যে ব্যক্তির বিএমআই স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও একটি প্রকাণ্ড ভুঁড়ি আছে—আসল ঝুঁকিতে রয়েছেন তিনি-ই!
ভুঁড়ির আড়ালে লুকিয়ে থাকা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
পেট ও কোমরে জমা এই নাছোড়বান্দা মেদ শরীরে নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে। এটি যেসব জটিল শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে—
- হরমোন ও ইনসুলিনের গোলযোগ: শরীরের সার্বিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এই চর্বি। একই সঙ্গে কমে যায় ইনসুলিনের সঠিক কার্যক্ষমতা।
- হৃদরোগের আশঙ্কা: ভুঁড়ি তৈরি হওয়া মানেই রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকা, যা সরাসরি ‘কার্ডিওভাসকুলার মর্টালিটি’ বা হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।
- প্রস্রাবের সমস্যা ও প্রদাহ: তলপেটে চর্বি জমার কারণে মূত্রথলি স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়, ফলে প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
- ক্যানসারের সরাসরি যোগসূত্র: পেটের চর্বি থেকে হরমোনের সামঞ্জস্য নষ্ট হয়ে মাত্রাতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন নিঃসৃত হয়। রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে এই অতিরিক্ত মেদ ক্যানসার কোষের দ্রুত বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগায়।
ভুঁড়ি থেকে যেসব ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে
- কোলন ও খাদ্যনালির ক্যানসার
- পাকস্থলী ও লিভার ক্যানসার
- অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) ক্যানসার
প্রস্টেট ক্যানসার: ৫০ বছর পেরোলেই পুরুষদের প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, যার অন্যতম পেছনে লুকিয়ে থাকে এই পেটের মেদ।
এর পাশাপাশি, শরীরে অতিরিক্ত চর্বির আস্তরণ থাকলে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাপ্রক্রিয়াও জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠে। তাই আর অবহেলা নয়—কোমরের মাপ ৪০ ইঞ্চি ছাড়ানোর আগেই সজাগ হোন এবং সুস্থ জীবনের জন্য ভুঁড়ি কমানোর পদক্ষেপে মন দিন।
