কর্মক্ষেত্রে কত দিন পরপর ছুটি কাটানো উচিত, জানাল গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ঘন ঘন ৩-৫ দিনের সংক্ষিপ্ত ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতে প্রতি দুই মাস পরপর বিরতি কিংবা ছুটি নেওয়া সবচেয়ে ভালো, যা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন'-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, বছরের সব ছুটি একবারে বা একনাগারে নেওয়ার চেয়ে ঘন ঘন ৩-৫ দিনের সংক্ষিপ্ত ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। কারণ একটানা কাজ করার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতি দুই মাস পরপর বিরতি নিলে মস্তিষ্ক নিজেকে রিচার্জ করার সুযোগ পায়, যা কাজে ফিরে আসার পর কর্মক্ষমতা ও কাজের গতি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
কারণ বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সবাই ভীষণ ব্যস্ত। অতিব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ এবং ক্লান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই ক্লান্তি দূর করতে আমরা অনেকেই দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে থাকি। বার্ষিক ছুটির আশায় একঘেয়েমি কাজ করে চলি। আমরা ভাবি— বছর শেষে লম্বা একটা ট্যুর দিলেই বোধহয় সব অবসাদ কেটে যাবে। কিন্তু আদৌ তা মোটেও ঠিক নয়। কারণ গবেষণা বলছে— ভিন্নকথা। ক্লান্তি দূর করে কাজে সতেজতা ফেরাতে দীর্ঘ ছুটির চেয়ে ঘন ঘন বিরতি নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।
এ বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাজীবীদের উচিত— একবারে সব ছুটি খরচ না করে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিরতি নিয়ে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করা। আপনার ছুটির ক্যালেন্ডারটি এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন প্রতি দুই মাস অন্তর আপনি কয়েক দিনের জন্য কাজ থেকে দূরে থাকতে পারেন। এতে আপনার মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে। কারণ দিনশেষে সতেজ মনই পারে আপনার শ্রেষ্ঠ কাজের নিশ্চয়তা দিতে। তাই পরের বার ছুটির পরিকল্পনা করার সময় বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর ছোট ছোট বিরতির কথা মাথায় রাখুন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি দুই মাস অন্তর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ছুটি কাটানো মানসিক সতেজতা, সুস্বাস্থ্য এবং কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। আর দীর্ঘ ছুটি সাময়িকভাবে মানসিক প্রশান্তি দিলেও এর ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
কাজে ফেরার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ছুটির আমেজ শেষ হয়ে যায় এবং পুনরায় মানসিক চাপ জেঁকে ধরে। এর বিপরীতে, প্রতি দুই মাস পরপর ছোট ছোট বিরতি নিলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এ অভ্যাস কর্মীদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং কাজে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

-6a93cf8ab7754.jpg)