হার্ট ফেইলিওরের আগেই শরীর যেসব সতর্ক সংকেত দেয়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
হৃৎপিণ্ড মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হৃৎপিণ্ড মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত পাম্প করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেয়। তবে অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনেকের হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘হার্ট ফেইলিওর’ বা দুর্বল হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা একদিনে কমে যায় না। এর আগে শরীর বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। কিন্তু অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাসের সমস্যা বা বয়সজনিত পরিবর্তন ভেবে অবহেলা করেন।
সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট
সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, অল্প হাঁটাহাঁটি কিংবা স্বাভাবিক কাজের সময় যদি অস্বাভাবিকভাবে হাঁপিয়ে যান বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তা দুর্বল হৃৎপিণ্ডের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। হৃৎপিণ্ড সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুসে তরল জমে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
পা ও শরীরের নিচের অংশে ফোলাভাব
কোনো আঘাত ছাড়াই যদি পা, গোড়ালি, পায়ের পাতা বা তলপেট ফুলে যায়, তাহলে তা শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয় এবং শরীরের নিচের অংশে পানি জমতে শুরু করে।
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সবসময় দুর্বলতা, ক্লান্তি বা অবসন্নতা অনুভব করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ দুর্বল হৃৎপিণ্ডের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত পৌঁছায় না।
শুয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট
অনেকের ক্ষেত্রে রাতে শোয়ার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় বা হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে ঘুম ভেঙে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মাথার নিচে অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করতে বাধ্য হন। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশিও হার্টের সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে।
বুকে চাপ বা অস্বস্তি
সব সময় তীব্র বুকব্যথা না হলেও বুক ভারী লাগা, ধড়ফড় করা, চাপ অনুভব করা কিংবা অস্বস্তি হওয়া দুর্বল হৃৎপিণ্ডের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় এই অস্বস্তি কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা বাঁ হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন না থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ এক থেকে দুই কেজি ওজন বেড়ে গেলে সতর্ক হওয়া উচিত। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার কারণেই এমনটি ঘটতে পারে।
মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানো
হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে তা মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছানোর লক্ষণ হতে পারে। দুর্বল হৃৎপিণ্ডের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়।
ক্ষুধামন্দা ও পেটে অস্বস্তি
পরিপাকতন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে বা তরল জমলে ক্ষুধা কমে যেতে পারে। সামান্য খাবার খেলেই পেট ভরা ভরা লাগা, বদহজম বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে যা করবেন
নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়াম হৃৎপিণ্ডকে সক্রিয় রাখে।
লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করুন: অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পানি পান করুন।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন: তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসব সূচক স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার চেষ্টা করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণের এক বা একাধিক দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6a9661a782560.jpg)