রাতে দেরি করে খাবার খাচ্ছেন, হতে পারে যে ৫ বিপদ
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস এবং খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে। আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই অজান্তেই এমন কিছু ভুল করছি, যা আমাদের শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমরা অনেকেই কর্মব্যস্ততার কারণে বা অলসতাবশত রাতে বেশ দেরিতে খাবার খাই।
আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এটি আমাদের শরীরের জন্য এক বিশাল নীরব ঘাতক। বিশেষ করে পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা, বুকজ্বালার মতো সমস্যাগুলোর জন্য রাতে দেরিতে খাওয়া দায়ী।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাতে দেরিতে খাবার খাওয়ার ফলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সাধারণভাবে রাতে ৫-৭ টার মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো। অথবা ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেতে হবে। কারণ খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে খাবার হজমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না।
দিনে কম খেয়ে রাতে বেশি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থি এবং এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় নাইট ইটিং সিন্ড্রোমের একটি লক্ষণ হিসেবেও দেখা হয়।
১. মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হওয়া
দিনের বেলা আমাদের শরীরের মেটাবলিজম বা ক্যালোরি পোড়ানোর হার সবচেয়ে বেশি থাকে। রাতে শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয় বলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। ফলে দিনে কম খেয়ে রাতে ভারী খাবার খেলে সেই ক্যালোরি সঠিকভাবে না পুড়ে সরাসরি চর্বি বা ফ্যাট হিসেবে জমা হয়, যা দ্রুত ওজন বাড়ায়।
২. তীব্র অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা
দিনের ঘাটতি মেটাতে রাতে যখন বেশি খাওয়া হয়, তখন পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। রাতে খাবার হজম করার ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, বদহজম এবং মারাত্মক বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে।
৩. রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা (ডায়াবেটিস)
গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা আমাদের শরীর ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে। রাতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই রাতে একবারে বেশি খাবার খেলে রক্তে হুট করে সুগার বা শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে।
৪. হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
সারাদিন পর্যাপ্ত না খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন (যেমন: লেপটিন ও ঘ্রেলিন)-এর ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে রাতের দিকে উল্টো অস্বাস্থ্যকর, মিষ্টি বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার তীব্র ক্রেভিং বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
৫. অনিদ্রা এবং ক্লান্তি
ভারী খাবার হজম করতে শরীরকে রাতেও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার কারণে গভীর ঘুম হয় না। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় পরের দিন সকালে শরীর পরিশ্রান্ত লাগে এবং দিনভর ক্লান্তি অনুভূত হয়।
রাতে খাওয়ার আগ্রহ কেনে বাড়ে
রাতে খাওয়ার আগ্রহ বাড়ার মূল কারণ হলো হরমোনের ওঠানামা এবং দিনের ভুল খাদ্যাভ্যাস। দিনে ব্যস্ততা বা ডায়েটের কারণে কম খেলে শরীর রাতে তীব্র ক্যালোরির ঘাটতিতে পড়ে, ফলে ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন ‘ঘ্রেলিন’ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এছাড়া সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তার কারণে শরীর থেকে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মস্তিষ্ককে মিষ্টি বা ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়ার তীব্র তাগিদ দেয়। পাশাপাশি রাতে জেগে টিভি বা মোবাইল দেখার অভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এই লেট-নাইট ক্রেভিং বা খাওয়ার ইচ্ছাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
