আপনার হার্ট সুস্থ আছে? যেসব লক্ষণে ধারণা পাবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই হবে না; প্রতিদিনের জীবনযাপনেও সচেতন থাকা জরুরি। শরীরের কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে হৃদ্স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ দেখে হৃদরোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। হঠাৎ বা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিলে, বিশেষ করে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১. অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট ছাড়াই সিঁড়ি ভাঙতে পারেন
দ্রুত হাঁটা বা কয়েক তলা সিঁড়ি ওঠার সময় অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট না হলে সাধারণত বোঝা যায়, আপনার হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস ও পেশি একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করছে।
তবে কঠিন ব্যায়ামের পর শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আগে যেসব কাজ সহজেই করতে পারতেন, সেগুলো করার সময় হঠাৎ অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। এর পেছনে শারীরিক ফিটনেস কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা, ফুসফুসের সমস্যা কিংবা হৃদরোগসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
২. ব্যায়ামের পর হৃদস্পন্দন দ্রুত স্বাভাবিক হয়
ব্যায়ামের সময় শরীরের পেশিগুলোর বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় বলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ব্যায়াম শেষ করার পর ধীরে ধীরে হৃদস্পন্দন কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তবে হৃদস্পন্দন কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, ব্যায়ামের মাত্রা ও কিছু ওষুধের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের পর হৃদস্পন্দন ধীরে স্বাভাবিক হওয়া তুলনামূলক কম কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই সারাক্ষণ নাড়ির গতি মাপার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যায়াম শেষে শরীর কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে, সেটি খেয়াল রাখা যেতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই সক্রিয় থাকতে পারেন
সুস্থ হৃদ্যন্ত্র শরীরের বিভিন্ন পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ব্যায়াম করা বা দৈনন্দিন কাজকর্ম অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই করতে পারা সাধারণত ইতিবাচক লক্ষণ।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি থাকা বা হঠাৎ ব্যায়াম করার সক্ষমতা কমে যাওয়াকে শুধু ব্যস্ত জীবন কিংবা ঘুমের অভাবের কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হৃদরোগের ক্ষেত্রে সব সময় বুকে ব্যথা নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শারীরিক পরিশ্রমের সক্ষমতা কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।
৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারেন
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা এমন যেকোনো ব্যায়াম, যা হৃদস্পন্দন বাড়ায়, কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস ধরে রাখতে সহায়তা করে।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করাও উপকারী।
এর জন্য ক্রীড়াবিদ হওয়ার দরকার নেই। নিয়মিত দ্রুত হাঁটা বা অন্যান্য সহজ শারীরিক কার্যকলাপও উপকারী হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কোনো উপসর্গ ছাড়াই সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারা সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার একটি ভালো সূচক।
৫. রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে
শুধু শরীরের অনুভূতি থেকে বোঝা যায় না রক্তচাপ বেড়েছে কি না। উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। এ কারণেই এটি হৃদ্রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘নীরব’ ঝুঁকি হিসেবে পরিচিত।
তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে রক্তচাপ স্বাস্থ্যকর মাত্রায় রাখা হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি বারবার রক্তচাপের মাত্রা বেশি পাওয়া যায়, তাহলে কোনো উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
উল্লেখ্য যে, এসব লক্ষণ হৃদ্যন্ত্র সুস্থ থাকার কিছু সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিতে পারে, কিন্তু এগুলো কোনোভাবেই হৃদরোগের চিকিৎসা-নির্ণয়ের বিকল্প নয়। নতুন বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
