এবার সিস্টোস্কোপি ছাড়াই মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্ত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রথলির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা প্রস্রাবের রং লাল, গোলাপি কিংবা গাঢ় বাদামি হয়ে গেলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্ত করতে বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষাগুলোর মধ্যে সিস্টোস্কোপি অন্যতম। এ পরীক্ষায় বিশেষ একটি যন্ত্র মূত্রনালির মাধ্যমে মূত্রথলিতে প্রবেশ করিয়ে ভেতরের অবস্থা দেখা হয়। তবে পদ্ধতিটি অনেকের জন্য অস্বস্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এ কারণে সিস্টোস্কোপির সহজ বিকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এবার এমন একটি প্রস্রাব পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, যা মূত্রথলির ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। পরীক্ষাটির নাম ‘গ্যালিয়াস টেস্ট’।
কীভাবে কাজ করবে গ্যালিয়াস টেস্ট?
মূত্রথলিতে ক্যানসার কোষ বাড়তে থাকলে শরীরে বিশেষ কিছু প্রোটিন তৈরি হয়। এসব প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। গ্যালিয়াস টেস্টে প্রস্রাবের নমুনা বিশ্লেষণ করে এই প্রোটিন শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
এর পাশাপাশি ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তনও খুঁজে দেখা হবে। গবেষকদের দাবি, পরীক্ষাটিতে ২৩টি জিনের প্রায় ৪৫০ ধরনের মিউটেশন বা জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এর ফলে শুধু ক্যানসার আছে কি না, তা নয় বরং রোগটি কতটা গুরুতর এবং শরীরে কতটা ছড়িয়ে পড়েছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।
পরীক্ষায় মিলেছে আশানুরূপ ফল
ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্যালিয়াস টেস্টের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।
তাদের দাবি, পরীক্ষাটি অন্তত ৯২ শতাংশ ক্ষেত্রে মূত্রথলির ক্যানসার সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে পরীক্ষাটি এখনো গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। তাই সিস্টোস্কোপির পুরোপুরি বিকল্প হিসেবে এটি কবে থেকে নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গবেষণার ফল আরও যাচাই করার পরই এর কার্যকারিতা ও ব্যবহারযোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
মূত্রের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে নিজে থেকে ক্যানসারের সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
