Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

এগ ফ্রিজিং কী? এর সুবিধা, ঝুঁকি, খরচ কেমন

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

এগ ফ্রিজিং কী? এর সুবিধা, ঝুঁকি, খরচ কেমন

Advertisement

ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে নারীদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন। এ পদ্ধতিতে নারীর ডিম্বাশয় থেকে নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। পরে সন্তান নেওয়ার সময় এসব ডিম্বাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। ফলে অনেক নারী তুলনামূলক কম বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখেন। এ ছাড়া ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির আগে, কিংবা ডিম্বাশয়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতের প্রজননক্ষমতা ধরে রাখতেও এগ ফ্রিজিং করা হয়।

চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়াও অনেকে পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়ার কারণে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন। এমন ক্ষেত্রে আগে থেকেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং’।

কীভাবে করা হয় এগ ফ্রিজিং?

প্রথমে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের অবস্থা ও ডিম্বাণুর সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। এরপর হরমোনের ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব হয়।

ডিম্বাণু পরিপক্ব হলে অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের মাধ্যমে সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে যোনিপথ দিয়ে সূচ প্রবেশ করিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরে ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতিতে দ্রুত হিমায়িত করে তরল নাইট্রোজেনে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।

ভবিষ্যতে সন্তান নিতে চাইলে সংরক্ষিত ডিম্বাণু গলিয়ে যেগুলো অক্ষত থাকে, সেগুলো শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করা হয়। তৈরি হওয়া ভ্রূণ পরে জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশে কি এই সেবা আছে?

বাংলাদেশেও কয়েক বছর ধরে এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা ‘সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং’ এখনো খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি।

ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগমের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠানে গত এক দশকে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছেন। তাদের কেউ এখনো সংরক্ষিত ডিম্বাণু ব্যবহার করতে আসেননি। ফলে বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিংয়ের পর সন্তান জন্মের সাফল্যের হার নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্যও নেই।

ডা. রাশিদা জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ডিম্বাণু সংগ্রহ পর্যন্ত খরচ পড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বয়স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর ভিত্তি করে খরচ কম-বেশি হতে পারে। এরপর ডিম্বাণু ফ্রিজ করার জন্য এককালীন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং সংরক্ষণ চালিয়ে যেতে বছরে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে বার্ষিক সংরক্ষণ খরচ ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই কি সন্তান হবে?

এগ ফ্রিজিং ভবিষ্যতে সন্তান হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় নারীর বয়স, সংরক্ষিত ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানের ওপর।

গাই’স অ্যান্ড সেন্ট থমাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সে ১২টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে পরে তা ব্যবহার করে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। ২০টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা থাকলে এই সম্ভাবনা ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে যুক্তরাজ্যের এইচএফইএ বলছে, এগ ফ্রিজিং প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হলেও এর সাফল্য নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত।

কী কী ঝুঁকি রয়েছে?

এগ ফ্রিজিংয়ের আগে প্রায় দুই সপ্তাহ হরমোনের ইনজেকশন নিতে হয়। এর ফলে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম বা ওএইচএসএস হতে পারে। এতে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং পেট বা বুকে তরল জমতে পারে। তবে ভিট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে গুরুতর এই জটিলতার ঝুঁকি এক শতাংশেরও কম।

ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় সংক্রমণ, রক্তপাত কিংবা আশপাশের অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সামান্য ঝুঁকিও রয়েছে। অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের কারণেও অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো হরমোনের ওষুধে ডিম্বাশয় পর্যাপ্ত সাড়া না দিলে বা সংগ্রহ করা ডিম্বাণু সংরক্ষণের উপযোগী না হলে প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হতে পারে।

বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পুরো এগ ফ্রিজিং প্রক্রিয়ায় অন্তত আড়াই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, ফলে কেমোথেরাপি শুরুতে দেরি হতে পারে। আবার জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু করতে হলে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ নাও পাওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, এগ ফ্রিজিং তুলনামূলক নিরাপদ একটি পদ্ধতি হলেও এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাই ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বয়স, স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র- বিবিসি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম