ভালোমন্দ খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভরপেট খাওয়ার পর ক্লান্তি জাঁকিয়ে বসে। দুই চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখন একটু ঘুমিয়ে নিতে মন চায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটাকে ‘পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’বা ‘ফুড কোমা’ বলা হয়ে থাকে।
‘ফুড কোমা’ কেন হয়?
অনিয়মিত জীবনযাত্রা, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি এবং ভারি খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে ‘ফুড কোমা’ হতে পারে। ভারি খাবার খেলে বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি পরিমাণে খেলে সেই খাবার হজমের জন্য অনেক শক্তি ব্যয় করতে হয়। পাকস্থলী ও অন্ত্রে তখন বেশি পরিমাণে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাঠাতে হয়। সেই সময়ে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়। ফলে, সাময়িক ভাবে ঝিমুনি, ক্লান্তি আসে।
হরমোনের তারতম্যও এর জন্য দায়ী হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন জাতীয় খাবার একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। যেমন, কেউ যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা রুটি, সঙ্গে মাংসের নানা পদ, সব্জি, মিষ্টিজাতীয় খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেলেন, তাহলে রক্তে ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যাবে।
ইনসুলিন রক্তের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিডকে মস্তিষ্কে পৌঁছোতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের ক্ষরণ বাড়লে অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিষ্কে পৌঁছোবে যা সেরোটোনিন (মন ভাল রাখার হরমোন) এবং মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) তৈরি করবে। ফলে ঘুম পাবে। তাই দেখা যায়, পছন্দের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরেই ঘুম বেশি পায়।
এই সমস্যা কাদের বেশি হয়?
দুপুরের খাবারে অতিরিক্ত শর্করা বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে হতে পারে।
ঘুম ঠিকমতো হয় না যাদের, অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে, তাদের ‘ফুড কোমা’ বেশি হয়।
রাত জাগার অভ্যাস থাকলে বা বেশি রাতে জাঙ্ক ফুড খেলে এমন হতে পারে।
কায়িক পরিশ্রম কম করেন যারা, শারীরচর্চা একেবারেই করেন না, তাদের ‘ফুড কোমা’ বেশি হয়।
টাইপ-২ ডায়াবিটিস থাকলে, ওজন বেশি হলে, অবসাদ ভোগালে ‘ফুড কোমা’ হতে পারে।
স্নায়ুর রোগের ওষুধ খান যারা অথবা লাগাতার অ্যান্টিবায়োটিক খান, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।
‘ফুড কোমা’ কোনও জটিল রোগ নয়। তাই ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। কেবল জীবনযাত্রায় সামান্য বদল আনলেই এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো- একবারে ভারি খাবার না খেয়ে বারে বারে অল্প অল্প করে খাবার খেতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার কম খেয়ে, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখতে হবে ডায়েটে। আর খাওয়ার পরে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা আবশ্যক। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
