Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

আমরা আসলে কখন বৃদ্ধ হয়ে যাই?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

আমরা আসলে কখন বৃদ্ধ হয়ে যাই?

Advertisement

বছর পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মানুষের বয়স অনিবার্যভাবেই বাড়ে। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি বয়সে পৌঁছালেই কি কেউ বৃদ্ধ হয়ে যায়? আর কখন একজন মানুষ নিজেকে সত্যিকার অর্থে প্রবীণ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ভাবতে শুরু করেন?

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বয়স বাড়া মানেই একজন মানুষ কম সক্রিয়, কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী বা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে কম সংযুক্ত বিষয়টি তা নয়। এক লেখকের লেখা থেকে জানা গেছে, জেবেল আলী নামে একটি গির্জায় বেদির কাছাকাছি দুই-তিনটি আসন প্রবীণদের জন্য সংরক্ষিত থাকত। বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থ উপাসনাকারীদের জন্য। আসনগুলো বেশির ভাগ সময় খালিই থাকত। তবে প্রার্থনাসভা চলাকালে কেউ সেখানে বসে পড়লে সাধারণত কেউ আপত্তি করত না।

লেখক ও তার জীবনসঙ্গী বহু বছর ধরে ওই আসনগুলো এড়িয়ে চলেছেন। তাদের ধারণা ছিল, যাদের সত্যিই আসনগুলো প্রয়োজন তাদের জন্যই খালি রাখা উচিত। কিন্তু একদিন গির্জা যখন বেশ ভিড় হয়ে যায় এবং বসার মতো আসন খুব কম থাকে, তখন তারা সিদ্ধান্ত নেন যে ওই সংরক্ষিত আসনেই বসবেন। কিছুক্ষণ পর একজন আয়োজক ভদ্রভাবে তাদের মনে করিয়ে দেন যে আসনগুলো প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।

লেখক জিজ্ঞেস করেন, কত বছর বয়স হলে? আমরা আসলে কখন বৃদ্ধ হয়ে যাই? এই ঘটনাটি বার্ধক্য সম্পর্কে একটি অদ্ভুত বাস্তবতা তুলে ধরে। অনেকের কাছে সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি বয়স বাড়া নয়। বরং অন্যরা এখন তাকে বৃদ্ধ হিসেবে দেখতে পারে এই বিষয়টি মেনে নেওয়া।

অনেক বয়স্ক মানুষ এখনও কাজ করেন, ভ্রমণ করেন, গাড়ি চালান, শরীরচর্চা করেন এবং নতুন নতুন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। তাদের জীবনযাপন প্রচলিত ধারণার বার্ধক্যর সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স সম্পর্কে ধারণাও বদলে যায়

শিশুদের কাছে ৫০ বছর বয়সী কাউকে অত্যন্ত বৃদ্ধ মনে হতে পারে। কিন্তু মানুষ নিজে যখন ৫০ বছরে পৌঁছায়, তখন সে হয়তো নিজেকে আশ্চর্যজনকভাবে তরুণই মনে করে এবং সামনে আরও বহু সম্ভাবনাময় বছর দেখতে পায়। এখানেই বয়স এবং বার্ধক্যের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মনিবন্ধন বা জন্মসনদে লেখা সংখ্যা শুধু বলে দেয় একজন মানুষ কত বছর ধরে পৃথিবীতে আছেন। এটি বলে না তিনি কতটা প্রাণবন্ত, তিনি কী করতে সক্ষম কিংবা ভবিষ্যতে কী অর্জন করতে চান।

বার্ধক্যের ধারণা বদলে যাচ্ছে

উইলিয়াম শেক্সপিয়র তার As You Like It নাটকে মানুষের জীবনের শেষ পর্যায়কে second childishness and mere oblivion অর্থাৎ এক ধরনের দ্বিতীয় শৈশব ও বিস্মৃতির সময় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার বাস্তবতায় বর্ণনাটি আজকের অনেক প্রবীণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সময়ে বয়স্ক মানুষরা চাকরি করছেন, আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণ করছেন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হচ্ছেন, নতুন দক্ষতা শিখছেন এবং শারীরিকভাবে কঠিন কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ এমনকি ম্যারাথন ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী সহনশীলতার প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতাও বার্ধক্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। 

প্রযুক্তি প্রবীণদের সংযুক্ত রাখছে

বার্ধক্য সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দেওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো প্রযুক্তি। স্মার্টফোন, ভিডিও কল, অনলাইন ব্যাংকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অনেক বয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ফলে বয়স বাড়লেই যে একজন মানুষ দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

বয়স একটি সংখ্যা, পরিচয় নয়

বয়স বাড়ার অর্থ এই নয় যে আনন্দ, নতুন অভিজ্ঞতা কিংবা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাই সম্ভবত বার্ধক্য পরিমাপের সবচেয়ে অর্থবহ উপায় শুধু কত বছর পেরিয়ে গেছে তা গণনা করা নয়। বরং একজন মানুষ সেই বছরগুলো কীভাবে বেঁচে চলেছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লেখকের কাছে গির্জার সেই ঘটনার পর সংরক্ষিত আসনগুলোর অর্থও যেন বদলে গেছে।

পরবর্তী সময়ে যখন তিনি সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সংরক্ষিত লেখা কোনো আসন দেখবেন, তখন হয়তো আর সেখানে বসতে দ্বিধা করবেন না। কারণ, অবশেষে তিনি হয়তো মেনে নিতে প্রস্তুত যে সেই আসনে বসার যোগ্য হওয়া এমন কোনো বিষয় নয় যা এড়িয়ে চলতে হবে। বরং এটি হয়তো জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার একটি অর্জন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম