কুকুরে কামড়ানোর কত ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হয়
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে কুকুরের কামড়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এবং বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কারণে কুকুরের কামড় ভীষণ বিপজ্জনক। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি, কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক, সেপসিস (রক্তে গুরুতর সংক্রমণ) এবং মেনিনজাইটিসের মতো মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী রোগও হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কুকুরের কামড়ের সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাগুলোর মধ্যে জলাতঙ্ক অন্যতম।
জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা র্যাবিস ভাইরাসের কারণে হয়। এটি সাধারণত মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রান্ত করে। আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে তার লালার সংস্পর্শে এলেই এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে প্রবেশের পর ভাইরাসটি স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের দিকে অগ্রসর হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
জলাতঙ্কের উপসর্গ সাধারণত দীর্ঘ একটি ইনকিউবেশন পিরিয়ডের পর দেখা দেয়। এর মধ্যে জ্বর, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, উত্তেজনা, হ্যালুসিনেশন বা ভ্রম এবং পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গ থাকতে পারে। ভাইরাসটি মস্তিষ্কে পৌঁছে ক্লিনিক্যাল বা দৃশ্যমান উপসর্গ শুরু হলে রোগটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তাই কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কত ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি
কুকুরে কামড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাধারণত র্যাবিসের ভ্যাকসিন নিতে হবে। ভুল ধারণা রয়েছে যে, কুকুর কামড়ানোর পরে উপযুক্ত লক্ষণ না দেখা পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কুকুরে কামড় দিলে যত দ্রুত সম্ভব, আদর্শগতভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং অবশ্যই প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার (সর্বোচ্চ ২ থেকে ৫ দিনের) মধ্যে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিতে হবে। এই ভ্যাকসিন কুকুর কামড়ানোর পর লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরে দিলে কেনো উপকারিতা পাওয়া যাবে না। কারণ, র্যাবিস ভাইরাস ততক্ষণে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়।
তাৎক্ষণিক যা করবেন
ক্ষতস্থান ধোয়া: কুকুর কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও কলের পানি দিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান খুব ভালোভাবে ধুতে হবে। এতে ভাইরাসের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
দেরি না করা: ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে গিয়ে টিকা শুরু করতে হবে। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর ভ্যাকসিন আর কাজ করে না।
প্রয়োজনীয় টিকা
১. জলাতঙ্কের টিকা (ARV): এটি অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত আধুনিক নিয়মে ৫টি ডোজে এই টিকা দেওয়া হয়।
২. টিটেনাস (ধনুষ্টঙ্ক) টিকা: ক্ষতস্থানের গভীরতা এবং আপনার আগের টিকার ইতিহাস দেখে চিকিৎসক ধনুষ্টঙ্কের ইনজেকশন বা বুস্টার ডোজ দিতে পারেন।
৩. ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG): গভীর ক্ষত বা মারাত্মক কামড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের বিস্তার রোধে টিকার পাশাপাশি র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরাসরি ক্ষতের চারপাশে প্রয়োগ করতে হয়।
