বিলাসবহুল হোটেলের বাথরুমে কমোডের পাশে কেন থাকে ফোন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিলাসবহুল কোনো হোটেলের ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে আধুনিক সাজসজ্জা, দামি আসবাব আর নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা। তবে হোটেলের বাথরুমে ঢুকলে হয়তো একটি বিষয় আপনার চোখ এড়িয়ে যায়। কমোডের ঠিক পাশে দেওয়ালে লাগানো একটি টেলিফোন।
এখনকার সময়ে যখন প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন, তখন বাথরুমের ভেতরে এই টেলিফোন রাখার কারণ কী? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসতে পারে। কেউ কেউ মজা করে ভাবতে পারেন, তাহলে কি বাথরুম থেকেই হোটেলের অতিথিরা অফিসের মিটিং করেন? আসলে বিষয়টি মোটেও তা নয়। এই ফোনের মূল উদ্দেশ্য নিরাপত্তা।
বিপদে কাজে আসে এই ফোন
ধরুন, বাথরুমের ভেজা মেঝেতে পা পিছলে আপনি পড়ে গেলেন। গুরুতরভাবে আহত হয়ে নড়াচড়া করার ক্ষমতাও হারালেন। অথচ আপনার মোবাইল ফোনটি পড়ে আছে হোটেল রুমের অন্য পাশে কিংবা চার্জে লাগানো।
এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যের জন্য বাইরে কাউকে ডাকাও সম্ভব নাও হতে পারে। দরজা বন্ধ থাকলে আপনার চিৎকারও হয়তো বাইরে পৌঁছাবে না। ঠিক তখনই কাজে আসে কমোডের পাশে থাকা ফোনটি।
অনেক হোটেলে এই ফোন এমনভাবে সংযুক্ত থাকে, যাতে রিসিভার তুললেই সরাসরি রিসেপশন বা হোটেলের নির্দিষ্ট জরুরি সহায়তা টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। কোথাও আবার আলাদা ইমার্জেন্সি বা লাল বোতামও থাকে।
অর্থাৎ, এটি সাধারণ ফোনের চেয়ে অনেকটা বাথরুমের জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
বয়স্ক ও অসুস্থ অতিথিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
হোটেলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অবস্থান করেন। বিশেষ করে বয়স্ক অতিথিদের জন্য বাথরুমে পড়ে যাওয়া, মাথা ঘুরে যাওয়া কিংবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্নান করার সময়ও কেউ হঠাৎ শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারেন। এমন অবস্থায় মোবাইল ফোন কাছে না থাকলেও বাথরুমের এই জরুরি ফোনের মাধ্যমে দ্রুত হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব।
তাই এটি শুধু একটি ফোন নয়। জরুরি মুহূর্তে সাহায্য চাওয়ার একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা।জ
একসময় ছিল বিলাসিতার প্রতিক
তবে বাথরুমে ফোন রাখার ইতিহাসের সঙ্গে শুধু নিরাপত্তা নয়, বিলাসিতারও সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক দশক আগে, বিশেষ করে আশির দশকের দিকে, ল্যান্ডলাইন ফোন ছিল আজকের মতো সহজলভ্য নয়। তখন দামি হোটেলের বাথরুমে টেলিফোন থাকা ছিল হোটেলের আভিজাত্য ও আধুনিকতার অন্যতম নিদর্শন।
সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। হাতে হাতে চলে এসেছে মোবাইল ফোন। ফলে বাথরুমে ফোন রাখার সেই পুরনো বিলাসিতার প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। তবুও অনেক বিলাসবহুল হোটেলে ফোনটি এখনো দেখা যায়। তবে এর গুরুত্ব বদলে গেছে। আগে এটি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক, আর এখন এটি মূলত নিরাপত্তার অংশ।
প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, জরুরি মুহূর্তে একটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই কমোডের পাশে ঝুলে থাকা পুরনো ধাঁচের ফোনটি আজও অনেক হোটেলের বাথরুমে জায়গা করে নিয়েছে। দেখতে সাধারণ হলেও, বিপদের সময় এই ছোট্ট ফোনটিই হয়ে উঠতে পারে অতিথির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম।
