Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ

Advertisement

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারে। ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা গেছেন। 

সিগারেট, পাইপ বা চুরুটের ধোঁয়া অন্য কেউ গ্রহণ করলে তাকে পরোক্ষ ধূমপান বলা হয়। গবেষকদের মতে, সামান্য পরিমাণ ধোঁয়াও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের নানা জটিলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ‘দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলটি ২০৪টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা গেছেন। 

এ ছাড়া গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৬.৭ কোটি শিশু (যাদের বয়স ১৪ বছর বা তার কম) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

মৃত্যুর প্রধান কারণসমূহ

পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হৃদরোগে। ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ৫ লাখ ৩৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর পেছনে এই কারণটি জড়িত ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য মৃত্যুর কারণগুলো হলো:

ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি): ৩ লাখ ৫৪ হাজার মৃত্যু

স্ট্রোক: ২ লাখ ৭৮ হাজার মৃত্যু

শ্বাসনালীর নিচের অংশের সংক্রমণ: ১ লাখ ৮৫ হাজার মৃত্যু

ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ক্যানসার: ১ লাখ ৬১ হাজার মৃত্যু

কোন অঞ্চলে প্রভাব বেশি?

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে (প্রায় ৬ লাখ ৮৯ হাজার)। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২৮ হাজার। চীন, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ায় ধূমপানের উচ্চ হারের কারণে বিশ্বের মোট পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের প্রায় অর্ধেকই এই তিন দেশে বসবাস করেন। 

যুক্তরাজ্যের চিত্র 

যুক্তরাজ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৯৯০ সালে যেখানে প্রায় ১৪,৯০০ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা গিয়েছিলেন, ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬,১০০ জনে। যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীর হার ১৯৯০ সালের ৩০ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি এখনো বেশ বড় উদ্বেগের বিষয় রয়ে গেছে।

গবেষণার সীমাবদ্ধতা 

এই গবেষণায় গবেষকরা শুধুমাত্র বাসা এবং কর্মক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অর্থাৎ গাড়ি, বিনোদন কেন্দ্র বা জনসমাগমস্থলে মানুষ কতটুকু ধোঁয়ার শিকার হচ্ছেন, তা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাছাড়া মানুষ ঠিক কতক্ষণ ধরে এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে ছিল, তাও পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। 

উদ্বেগজনক এই গবেষণার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী তামাকের উচ্চ কর, ধূমপানবিরোধী বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা এবং সাধারণ মোড়কজাতকরণ ব্যবস্থা চালুর মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত ই-সিগারেট বা ভেপিং তামাকের ধোঁয়া তৈরি না করায়, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি সরাসরি প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। 

সূত্র: ডেইলি মেইল 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম