শিংরিক্স টিকা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে ৯ শতাংশ, বলছে গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিংলস প্রতিরোধে ব্যবহৃত আধুনিক টিকা শিংরিক্স শুধু এই বেদনাদায়ক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় না, বরং হৃদরোগের সামগ্রিক ঝুঁকিও কমাতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শিংরিক্স টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে সাত বছরে হৃদরোগের সামগ্রিক বোঝা পুরনো শিংলস টিকা গ্রহণকারীদের তুলনায় ৯ শতাংশ কম ছিল।
শিংলস হলো ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ফল। এই ভাইরাসই আগে চিকেনপক্স বা জলবসন্তের কারণ হয়। জলবসন্ত সেরে যাওয়ার পর ভাইরাসটি স্নায়ুতন্ত্রে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায় এবং বয়স বাড়া বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হলে আবার সক্রিয় হতে পারে।
শিংলস হলে শরীরের এক পাশে জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন অনুভূতি, চুলকানি ও তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। কয়েকদিন পর সেখানে ফুসকুড়ি ও পানিভর্তি ফোস্কা তৈরি হয়। সাধারণত ফুসকুড়ি দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সেরে গেলেও ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে মাস বা বছরজুড়েও স্থায়ী হতে পারে।
গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি
শিংলসের সবচেয়ে পরিচিত জটিলতা হলো পোস্টহারপেটিক নিউরালজিয়া। এতে ফুসকুড়ি সেরে যাওয়ার পরও স্নায়ুর তীব্র ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ জটিলতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
চোখে শিংলস হলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার মুখ বা কানের স্নায়ু আক্রান্ত হলে শ্রবণশক্তির সমস্যা কিংবা মুখের পেশি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও পুনরায় সংক্রমণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিংলস নিজে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করে না। বরং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লেই সুপ্ত ভাইরাসটি সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়।
ক্যানসার, এইচআইভি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কেমোথেরাপি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দমনকারী ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে শিংলসের ঝুঁকি বেশি। তবে সুস্থ তরুণদের মধ্যেও কখনও কখনও রোগটি দেখা দিতে পারে।
একবার শিংলস হলে তা থেকে আজীবন সুরক্ষা পাওয়া যায় না। অনেকের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আগে শিংলস হওয়া মানেই টিকার প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা সঠিক নয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী নেচার মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি ৭২ হাজার ৯২০ জনের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬০ জন শিংরিক্স টিকা নিয়েছিলেন এবং সমসংখ্যক ব্যক্তি পুরনো জীবন্ত ভাইরাসভিত্তিক জোস্টাভ্যাক্স টিকা গ্রহণ করেছিলেন।
সাত বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিংরিক্স গ্রহণকারীদের মধ্যে হৃদরোগের সামগ্রিক ঝুঁকি ৯ শতাংশ কম ছিল।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে—
ইস্কেমিক হৃদরোগের ঝুঁকি ১০ শতাংশ কমেছে।
হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতা বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি ১২ শতাংশ কমেছে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি ১২ শতাংশ কম ছিল।
নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই অনিয়মিত হৃদস্পন্দনজনিত রোগ এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন-এর ঝুঁকি ৭ শতাংশ কম পাওয়া গেছে।
কীভাবে উপকার করতে পারে টিকাটি?
গবেষকদের ধারণা, শিংলস সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে শরীরের প্রদাহ কমতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।
শিংরিক্সে ব্যবহৃত AS01 নামের একটি উপাদান রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহজনিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব ব্যাখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
গবেষণার প্রধান গবেষক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাক্সিম তাকে বলেন, হৃদরোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তাই এমন কোনো ব্যবস্থা যদি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে তিনি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা কেবল টিকা ও হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে; এটি সরাসরি প্রমাণ করে না যে শিংরিক্স হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।
গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দুটি ট্রায়াল চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
টিকার মূল উদ্দেশ্য এখনো শিংলস প্রতিরোধ
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি সব প্রাপ্তবয়স্ককে দুই ডোজ শিংলস টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিংরিক্সের প্রধান ও প্রমাণিত উপকারিতা হলো শিংলস ও এর জটিলতা প্রতিরোধ করা। হৃদরোগ প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা আশাব্যঞ্জক হলেও, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

