Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

দুপুরের খাবারের পর ঘুম পায় কেন?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

দুপুরের খাবারের পর ঘুম পায় কেন?

Advertisement

দুপুরে ভালোভাবে খাওয়ার পর হঠাৎ চোখে ঘুম নেমে আসা অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। কাজের সময় মনোযোগ কমে যায়, শরীরেও অলসতা ভর করে। খাবারের পর এমন তন্দ্রাভাব কেন তৈরি হয়, তার পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞরা খাবারের পর তৈরি হওয়া এই ঘুম ঘুম ভাবকে ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’ বলে থাকেন। চিকিৎসক ডা. আইলিন ক্যান্ডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খাবার গ্রহণের পর শরীর হজমের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকটা বিশ্রাম অবস্থায় চলে যেতে পারে। অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে যাওয়া সংকেত, বিভিন্ন হরমোনের প্রভাব, রক্তে পুষ্টি উপাদানের পরিবর্তন এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয়তা—সব মিলিয়েই খাবারের পর তন্দ্রাভাব তৈরি হতে পারে।

সাধারণত খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর এই ঘুমভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে খাবারের পরিমাণ বেশি হলে এর প্রবণতা বাড়ে। তবে শুধু বেশি খাওয়াই এর একমাত্র কারণ নয়। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম, অ্যালকোহল গ্রহণ, পানিশূন্যতা এবং কিছু ঘুমভাব সৃষ্টিকারী ওষুধও খাবারের পর ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্তে শর্করার ওঠানামার প্রভাব

খাবারের পর তন্দ্রাভাব তৈরিতে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামারও ভূমিকা থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এরপর ইনসুলিনের প্রভাবে গ্লুকোজ দ্রুত কমে গেলে অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ঘুমভাব দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে ‘রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়।

সাদা ভাত, পেস্ট্রি ও চিনিযুক্ত পানীয়ের মতো খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ানো-কমানোর প্রবণতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার হজমের গতি ধীর করে দিতে পারে এবং শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

আবার বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার ট্রিপটোফ্যানের মাত্রা বাড়াতে পারে। এই উপাদান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা ঘুম ও বিশ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত।

দুপুরের খাবারের পর সতেজ থাকার উপায়

খাবারের পর দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম ও সতর্ক থাকতে চাইলে খাদ্যতালিকায় শস্য, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির মধ্যে ভারসাম্য রাখা যেতে পারে। তবে খাবার খাওয়ার পর ঘুম পেলেই সেটিকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ মনে করা ঠিক নয়। কোনো রোগের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী খাবারের পর সাময়িক ক্লান্তি বা তন্দ্রাভাব স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর তীব্র ক্লান্তি দেখা দিলে, খাবারের পরিমাণ কম হলেও যদি একই সমস্যা হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

বিশেষ করে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এ ধরনের সমস্যার পেছনে ইনসুলিন প্রতিরোধ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো শারীরিক অবস্থা থাকতে পারে। এ ছাড়া থাইরয়েডের কার্যকারিতায় সমস্যা কিংবা অজানা কোনো ঘুমের সমস্যাও খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম