চিকিৎসার পরও যেসব কারণে ফিরে আসতে পারে পাইলস
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাইলসের চিকিৎসার পর অনেকটাই স্বস্তি মেলে। রক্তপাত কমে বা বন্ধ হয়, মলত্যাগ সহজ হয়ে আসে এবং অস্বস্তিও দূর হতে থাকে। কিন্তু কয়েক মাস পর একই ধরনের সমস্যা আবার দেখা দিলে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে—চিকিৎসার পরও পাইলস কেন ফিরে এলো?
তবে প্রতিবার এমনটা হওয়ার অর্থ এই নয় যে আগের চিকিৎসা কাজ করেনি। পাইলসের উপসর্গ পুনরায় দেখা দেওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া কিংবা দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকার মতো অভ্যাস চিকিৎসার পরও চলতে থাকলে মলদ্বারে চাপ তৈরি হতে পারে। আবার কখনও একই ধরনের উপসর্গ অন্য কোনো মলদ্বার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে।
১. পাইলসের পেছনের মূল কারণ থেকে যেতে পারে
পাইলসের চিকিৎসা করলেই এর জন্য দায়ী মলত্যাগের অভ্যাসগুলো সবসময় পরিবর্তন হয়ে যায় না। যেমন দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে কারও শক্ত মল হতে পারে এবং মলত্যাগের সময় নিয়মিত অতিরিক্ত চাপ দিতে হতে পারে।
চিকিৎসার মাধ্যমে ফোলা টিস্যুর সমস্যা দূর করা গেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য ও চাপ দেওয়ার অভ্যাস অব্যাহত থাকলে একই জায়গায় আবার চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে উপসর্গ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।
২০২২ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় হেমোরয়েডে আক্রান্তদের মধ্যে কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্যের হার বেশি। গবেষণায় মলদ্বারে বাড়তি চাপেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোষ্ঠকাঠিন্যের যথাযথ চিকিৎসা এবং পেলভিক ফ্লোরের সমন্বয়জনিত সমস্যা ঠিক করা দীর্ঘমেয়াদে উপকার করতে পারে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
২. পুরোনো টয়লেটের অভ্যাস আবার শুরু হতে পারে
চিকিৎসার সময় অনেকেই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনেন। বেশি পানি পান করা, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং টয়লেটে কম সময় কাটানোর মতো অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু উপসর্গ কমে যাওয়ার পর অনেকেই ধীরে ধীরে পুরোনো রুটিনে ফিরে যান।
কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় জোর করা, কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং মলত্যাগের চাপ আটকে রাখার মতো অভ্যাস স্বাভাবিক মলত্যাগে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
টয়লেটে কতক্ষণ সময় কাটানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফোন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা অনেকের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও এতে মলদ্বারের আশপাশে চাপ বাড়তে পারে।
২০২৫ সালে Frontiers in Surgery-তে প্রকাশিত ৫৮০ জনকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় মলদ্বারের রোগে আক্রান্তদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ২০ মিনিটের বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকার প্রবণতা বেশি ছিল। তবে এটি একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়; দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকাই সরাসরি পাইলসের কারণ—গবেষণাটি এমন প্রমাণ দেয়নি।
৩. কিছু আক্রান্ত টিস্যু রয়ে যেতে পারে
অনেকের ধারণা থাকে, চিকিৎসার পর পাইলসের সব আক্রান্ত টিস্যু পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে। কিন্তু সব ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এমনটা হয় না। পাইলসের সংখ্যা, আকার ও ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে কখনও ধাপে ধাপে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
ফলে কিছু আক্রান্ত টিস্যু থেকে যেতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে আবার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসার অল্প সময়ের মধ্যেই একই ধরনের সমস্যা ফিরে এলে নতুন করে পাইলস হয়েছে ধরে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো ভালো।
৪. অন্য কিছু কারণেও মলদ্বারে চাপ বাড়তে পারে
কোষ্ঠকাঠিন্য ছাড়াও কিছু শারীরিক অবস্থা মলদ্বারের আশপাশে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের কাশি, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা দীর্ঘসময় বসে থাকার মতো বিষয়গুলো এর মধ্যে রয়েছে।
এসব কারণ অব্যাহত থাকলে শুধু পাইলসের চিকিৎসা করলেই সমস্যার সব উৎস দূর নাও হতে পারে। তাই উপসর্গ পুনরায় দেখা দিলে শুধু কোন চিকিৎসা নিতে হবে সেটি নয়, বরং কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলদ্বারে বাড়তি চাপ তৈরির কারণ এখনো আছে কি না, সেটিও খুঁজে দেখা জরুরি।
৫. নতুন উপসর্গের কারণ পাইলস নাও হতে পারে
আগে পাইলস হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী সময়ে মলদ্বারে রক্তপাত, ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলেই অনেকে সেটিকে আবার পাইলসের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু একই ধরনের উপসর্গ মলদ্বারের অন্যান্য রোগেও দেখা দিতে পারে।
তাই চিকিৎসার পর নতুন করে রক্তপাত, ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে নিজে থেকে সেটিকে পাইলসের পুনরাবৃত্তি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে উপসর্গ নতুন, তীব্র বা স্থায়ী হলে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
